নীড় / বিবিধ / বিভিএ / নতুন বিভিএ, পুরাতন প্রত্যাশা

নতুন বিভিএ, পুরাতন প্রত্যাশা

দীর্ঘ কয়েক বছর পর বিভিএ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। অত্যান্ত ইনক্লুসিভ একটি নির্বাচন হলো। বলতে গেলে নির্বাচিত কমিটি একটি শক্ত-পোক্ত ম্যান্ডেট পেলো। সুতরাং এ কমিটির প্রতি আমাদের আশা-আকাঙ্খা অন্য যেকোন সময়ের কমিটি থেকে বেশি। আশা বেশি বলে আবার ভয়ও বেশি। তারপরেও তাঁরা যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন, তাই ভেটেরিনারিয়ানগণ মনে করছেন এ কমিটি অন্তত অন্য কমিটির মতো অযুহাত দাঁড় করাতে পারবে না যে তাঁদের কেউ সহযোগিতা করেনি। যাই হোক একজন ভেটেরিনারি গ্রাজুয়েট হিসেবে আমার কাছে যে বিষয়গুলি অর্জনযোগ্য মনে হয়েছে কিংবা যে বিষয়গুলি নিয়ে বিভিএ কাজ শুরু করতে পারে বলে মনে হয়েছে এ লেখায় তাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। আমার আশা-আকাঙ্খাকে আমি তিনটি ভাগে ভাগ করেছি: জরুরী, স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি।
(ক) জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া দরকার (১-৩ মাসের মধ্যে):

দ্রুত অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়ন: উপর্যুক্ত সময়ের মধ্যে অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়ন করা না গেলে অর্গানোগ্রাম নিয়ে আশাবাদী হওয়ার আর সুযোগ থাকবে বলে মনে হয় না।

বেসরকারি খাত: বিভিএ’র পক্ষে বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মরত ভেটদের জন্য কাজ করা খুব দূরহ। তারপরও বলবো অন্তত আগামী ১ মাসের মধ্যে বেসরকারি সেক্টরে কর্মরত ভেটদের (সকল পর্যায়ের) নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করা উচিত। ভেট এক্সিকিউটিভ যেহেতু সচল, সেহেতু এটা আয়োজন করা খুব কঠিন কিছু হবে না। এ কর্মশালা থেকে অন্তত একটি কনসেনসাস আসতে পারে বেসরকারি খাতে ঠিক কি কি বিষয় নিয়ে বিভিএ বাস্তবসম্মতভাবে কাজ করতে পারবে।

মোবাইল কোর্টের প্রমাপ: ডিএলএসের মাধ্যমে মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যেক ভিএস এর জন্য মাসিক অন্তত ০৪টি করে প্রাণি সংক্রান্ত যে কোন আইনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রসিকিউশন দেয়ার বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত সার্কুলার বের করা। এতে করে কোয়াক সমস্যা সমাধান, পশু খাদ্যে ভেজালসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনে ভিএসদের কর্তৃত্ব বৃদ্ধি পাবে। মৎস্য বিভাগ অলরেডি এটা করছে (তাদের প্রমাপের মাধ্যমে বাধ্যবাধকতার সার্কুলার আছে কিনা জানা নেই, তবে তাঁরা করছে)। সার্কুলার থাকলে একটা বাধ্যবাধকতা থাকবে।

একটি এডভাইজরি কমিটি তৈরি করা: বিভিএ প্রয়োজনে একটি সার্কুলার ইস্যু করে বিভিএকে পরামর্শ দেয়ার জন্যে একটি এডভাইজরি কমিটি তৈরি করে দিতে পারে। আমাদের শিক্ষক, গবেষক কিংবা আগ্রহী কোন ভেটকে অন্তর্ভুক্ত করে এ কমিটি গঠণ করা যেতে পারে। এটি কমিটি কোয়াসি ফরমাল প্রকৃতির হতে পারে।

(খ) স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা (০৩ মাস থেকে ১ বছর):

সাংগঠনিক:
বিভিএ’র বিদ্যমান বিধিমালার কাঙ্খিত (প্রয়োজনে সভা করে) সংশোধনের ব্যপারে উদ্যোগ নেয়া।

জেলায় জেলায় বিভিএ গঠন: আইইবি, বিএমএ, কৃষিবিদসহ সকল পেশাজীবী সংগঠনের জেলা শাখা আছে। অনেকের অফিসও আছে। সে হিসেবে প্রতি জেলায় বিভিএ’র শাখা খোলা উচিত। অনেক জায়গায় জেলা বিভিএ গঠণ করা হয়েছে, তবে তা বিভিএ’র উদ্যোগে নয়। তবে যদ্দুর দেখেছি নমেনক্ল্যাচারেও ভিন্নতা আছে। নাম একই রকম হওয়া বাঞ্ছনীয়। যেমন: বিভিএ, —— জেলা শাখা। প্রয়োজনে বিভিএ’র বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধন করা উচিত।

পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট তৈরি করাঃ আন্তর্জাতিক মানের একটি ওয়েবসাইট তৈরির কাজ শুরু করতে হবে এবং তা নিয়মিত আপডেট করতে হবে। এই ওয়েবসাইট-ই হবে বিভিএ-এর মুখপাত্র ।

ভেট ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট গঠণ এবং এর বিধিমালা প্রস্তুতকরণঃ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট গঠণের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠণ করা। উক্ত কমিটি ট্রাস্ট পরিচালনার বিধিমালা প্রণয়নের কাজও করবেন।

নিয়োগ:
বিসিএসে নিয়োগের বয়স ৩২ করা ও স্পেশাল বিসিএসের ব্যবস্থা করা।
আরভিএফসিতে সরাসরি ক্যাপ্টেন হিসেবে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে সম্মত করানো।

(গ) দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা (১ বছর থেকে ২ বছর): কাজ শুরু করতে হবে যা পরবর্তী কমিটি এগিয়ে নিয়ে যাবে।

স্থাপনা:
আবাসিক সুবিধা সম্বলিত বিভিএ’র আধুনিক ভবন: নাসিম ভাইয়ের সাথে সর্বোচ্চ যোগাযোগ করে এ ব্যপারে একটি উদ্যোগ নিয়ে সফল হতে পারলে বিভিএ’র জন্যে এটা হবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। একমাত্র নাসিম ভাইই পারবে এ ব্যাপারে একটি ব্যবস্থা করতে। শুরুটা করতে পারলে শেষ হবে একদিন না একদিন।

নিয়োগ:
স্থানীয় সরকার বিভাগ, বনবিভাগ, সাফারি পার্ক ইত্যাদি সংস্থায় নিয়োগ।

স্থানীয় সরকার বিভাগ: সিটি কর্পোরেশনে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অধীন থেকে ভেটেরিনারি বিভাগকে আলাদা করা এবং সিভিও পদ সৃষ্টি করে একটি অর্গানোগ্রাম তৈরির প্রস্তাব পাশ করানো।

বনবিভাগ ও সাফারি পার্ক: ভেটেরিনারি বিভাগ চালু করা।

গবেষণা: বাংলাদেশে ভেটেরিনারির জন্য আলাদা কোন গবেষণা প্রতিষ্ঠান নেই। অন্তত একটি ভেটেরিনারি রিসার্চ ইনস্টিটিউট চালু করার ব্যপারে বিভিএকে উদ্যোগী হতে হবে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, ডিএলএসের যাঁরা পিএইচডি ডিগ্রিধারী তাঁদের নিয়ে আগামী ৩-৬ মাসের মধ্যে একটি সেমিনার করে একটি কমিটি করে দিতে পারলে এবং বিভিএ রাজনৈতিকভাবে দৌড়াদৌড়ি করতে পার লে আলাদা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সূচনা হতেই পারে। এ বিষয়ে আমাদের আরেকজন “হাফিজ স্যার” অথবা “নীতিশ স্যার” দরকার।

এটি একটি ধারণাপত্র মাত্র। বিভিএ তার নিজস্ব কমিটির মতামত নিয়ে কাজ করবে। দিন শেষে তাঁরাই ভেটদের মুখাপেক্ষী হবেন, তাঁরাই দায়ী থাকবেন। উপর্যুক্ত আইডিয়াগুলি নেয়া-না নেয়ার স্বাধীনতা কমিটির রয়েছে। কমিটির সাফল্য কামনা করে তাঁদের প্রতি আস্থা রেখে আশা করছি তাঁরা এর চেয়েও ভালো বিভিএ আমাদের উপহার দিবে। ধন্যবাদ সকলকে।

লেখকঃ ডা. মইন

তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ হতে ডিভিএম এবং ফার্মাকোলজিতে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সায়েন্টিফিক অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট-এ কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-এর প্রধান কার্যালয়ে সিনিয়র অফিসার পদে বাজেট এন্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-এ কাজ করেছেন। তাছাড়া তিনি সহকারী জেলা কমান্ড্যান্ট (৩০ তম বি.সি.এস-আনসার), মানিকগঞ্জ-এ কাজ করেছেন। বর্তমানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জামালপুর সদর হিসেবে কাজ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *