নীড় / বিবিধ / আইন ও নীতিমালা / পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রন আইন, ২০১১

পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রন আইন, ২০১১

পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের জন্য মানসম্মত মাংস প্রাপ্তি নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে এবং তদসংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক বিষয়াদি
সর্ম্পকে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রনীত আইন
 
 
যেহেতু পশু জবাই ও জনসাধারণের জন্য মানসম্মত মাংস প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান করা
সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-
   
     
   
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন  
১। (১) এই আইন পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রন আইন, ২০১১ নামে অভিহিত হইবে।(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে ইহা কার্যকর হইবে।
   
 
   
     
   
সংজ্ঞা
২।বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-(১) ‘‘অফাল’’(Offal)অর্থ জবাইকৃত পশুর কারকাস ব্যতীত ভক্ষণযোগ্য ও ভক্ষণঅযোগ্য অংশ,যথাঃ- যকৃত, ফুসফুস, বৃক্ক, মস্তিস্ক, চর্বি, হাড়, নাড়িভূঁড়ি ইত্যাদি;(২) ‘‘উপযুক্ত চিকিৎসক’’ অর্থ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্ব স্ব অধিক্ষেত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা বা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, মেডিকেল অফিসার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন মেডিকেল অফিসার যিনি Medical and Dental Council Act,1980এরsection 2(b)তে সংজ্ঞায়িত কাউন্সিল কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত চিকিৎসক;(৩) ‘‘কর্তৃপক্ষ’’ অর্থ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর;(৪) ‘‘কারকাস’’ অর্থ জবাইখানা বা অন্য কোন নির্ধারিত স্থানে জবাইকৃত পশুর সম্পূর্ণ রক্ত নি:সৃত(Bleeding)এবং জবাই পরবর্তী প্রস্ত্ততকৃত(Dressing)দেহ বা দেহের অংশ বিশেষ;

(৫) ‘‘কালিং’’(Culling)অর্থ প্রজনন, উৎপাদন, চাষাবাদ বা পরিবহন কাজের জন্য উপযুক্ত নহে কিন্তু জবাইয়ের উপযুক্ত এমন পশু বাছাই;

(৬) ‘‘জবাই’ অর্থ মানুষের ভক্ষণের উদ্দেশ্যে জবাই উপযুক্ত পশুকে ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে পরিষ্কার ধারালো ছুরি বা চাকু দ্বারা কাটিয়া রক্ত বাহির বা নিঃসরন করিবার পদ্ধতি;

(৭) ‘‘জবাই উপযুক্ত পশু’’ অর্থ ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, ভেটেরিনারিয়ান কর্তৃক ঘোষিত জবাইয়ের উপযুক্ত যে কোন সুস্থ পশু;

(৮) ‘‘জবাইখানা’’ অর্থ মানুষের খাদ্য হিসাবে ব্যবহারের জন্য জবাইপূর্ব পশু পরীক্ষা, পশু জবাই এবং জবাই পরবর্তী কারকাস পরীক্ষার জন্য সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন ভবন বা স্থান;

(৯) ‘‘নির্ধারিত’’ অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;

(১০) ‘‘নিষিদ্ধ দিবস’’ অর্থ সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা ঘোষিত পশু জবাই ও মাংস বিক্রয় নিষিদ্ধ দিবস;

(১১) ‘‘পরিবেশন স্থাপনা’’ অর্থ যে কোন হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাওয়ার ঘর, ক্যান্টিন বা অনুরূপ অন্য কোন স্থান, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে যাহা জনগণের জন্য বা সুনির্দিষ্ট শ্রেণীর জনগণের জন্য উন্মুক্ত এবং যেখানে পরিবেশন বা ভক্ষণ করা হয়;

(১২) ‘‘পশু’’ অর্থ নিম্নবর্ণিত সকল ধরণের প্রাণী, যথাঃ-

(অ) গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, উট, অন্য কোন আইনে নিষিদ্ধ না থাকিলে খরগোশ ও হরিন ;

(আ) শুকর;

(ই) পাখি জাতীয় প্রাণী যথা, হাঁস, মুরগি, কোয়েল, কবুতর, টার্কি ইত্যাদি; এবং

(ঈ) সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা ঘোষিত নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর নিকট হালাল বা গ্রহণযোগ্য অন্য যে কোন প্রাণী;

(১৩) ‘‘বর্জ্য’’ অর্থ জবাই প্রক্রিয়ার সময় বা অন্য কোনভাবে জবাইখানায় সৃষ্ট বা আনীত দ্রব্যাদি বা সরকার কর্তৃক ঘোষিত যে কোন দ্রব্যাদি, যাহা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অপসারণ প্রয়োজন;

(১৪) ‘‘বিধি’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(১৫) ‘‘ভক্ষণ অযোগ্য’’ অর্থ জবাইকৃত পশু বা মাংস পরিদর্শনের পর বা অন্য কোন উপায়ে নির্ধারিত, মানুষের ভক্ষণের অনুপযুক্ত বা ধ্বংস করা প্রয়োজন, এইরূপ কারকাস, মাংস বা অফাল;

(১৬) ‘‘ভেটেরিনারি কর্মকর্তা’’ অর্থ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীন কর্মরত কোন কর্মকর্তা, যিনি Bangladesh Veterinary Practitioner’s Ordinance, 1982 (Ordinance NO, XXX of 1982)এর section 2(g)তে সংজ্ঞায়িত Registered Veterinary Practitioner;
(১৭) ‘‘ভেটেরিনারিয়ান’’ অর্থ, সিটি কর্পোরেশন বা, ক্ষেত্রমত, পৌরসভায় কর্মরত জবাইযোগ্য পশু বা মাংস পরিদর্শনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা, যিনি Bangladesh Veterinary Practitioner’s Ordinance, 1982 (Ordinance NO. XXX of 1982)এর section 2 (g)সংজ্ঞায়িতRegistered Veterinary Practitioner;
(১৮) ‘‘মহাপরিচালক’’ অর্থ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক;

(১৯) ‘‘মাংস’’ অর্থ কোন জবাইখানায় জবাইয়ের উপযুক্ত যে কোন সুস্থ জবাইকৃত পশুর মাংস বা অন্যান্য ভক্ষণযোগ্য অফাল এবং বাংলাদেশ পশু ও পশুজাত পণ্য সঙ্গ নিরোধ আইন, ২০০৫ (২০০৫ সনের ৬ নম্বর আইন) এর অধীন আমদানিকৃত মাংস;

(২০) ‘‘মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা’’ অর্থ কারকাস হইতে মাংস বা মাংসজাত পণ্য তৈরীর কারখানা;

(২১) ‘‘মাংস বিক্রয় স্থাপনা’’ অর্থ মাংস বিক্রয় করিবার প্রতিষ্ঠান বা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে প্রদর্শিত হয়, এইরূপ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত স্থান;

(২২) ‘‘সাময়িকভাবে পশু রাখিবার স্থান(Stockyard)’’অর্থ সরকার কর্তৃক ঘোষিত চতুর্দিকে দেয়াল বা বেড়া দ্বারা ঘেরাওকৃত, যেখানে জবাই এর জন্য পশু সাময়িক জড়ো করা হয় বা যেখানে ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, ভেটেরিনারিয়ান পশুর জবাই উপযুক্ততা পরীক্ষা করেন।

জবাইখানার বাহিরে পশু জবাই নিষিদ্ধকরণ
৩।(১) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্র ব্যতীত, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিক্রির জন্য কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা জবাইখানার বাহিরে কোন পশু জবাই করিতে পারিবে না, যথাঃ-(ক) ঈদুল আজহা, ঈদুল ফিতর বা অন্য কোন ধর্মীয়, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা ঘোষিত অন্য কোন উৎসব বা অনুষ্ঠান;(খ) পারিবারিক চাহিদার ভিত্তিতে পারিবারিক ভোজনের উদ্দেশ্যে।(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উক্ত উপ-ধারার দফা (ক) বা (খ) এ বর্ণিত ক্ষেত্রে জবাইখানার বাহিরে এইরূপ স্থানে ও উপায়ে পশু জবাই করিতে হইবে যাহাতে-(ক) পানি বা পানির উৎস,বায়ু বা পরিবেশের অন্য কোন উপাদান দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না; এবং

(খ) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী পশু জবাই ও বর্জ্য অপসারণ করা যায়।

জবাই নিষিদ্ধ পশু
৪।(১) সরকার যে কোন পশু জবাই নিষিদ্ধ করিবার লক্ষ্যে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।(২) কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা বিধিতে উল্লিখিত জবাই নিষিদ্ধ পশু জবাই করিতে বা জবাই করিবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেনা।
জবাই পূর্ব ও জবাই পরবর্তী পশু ও কারকাস ইত্যাদি, পরীক্ষা
৫।(১) এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি দ্বাবা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পশু জবাই করিতে হইবে।(২) এই আইনের ধারা ১৫ তে বর্ণিত পশু জবাই নিষিদ্ধ দিবস ব্যতীত অন্যান্য দিনে জবাই খানায় জবাইয়ের উদ্দেশ্যে আনীত পশু এবং জবাই পরবর্তী পশু ও কারকাস সংশ্লিষ্ট ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, ভেটেরিনারিয়ান কর্তৃক এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি অনুসরণপূর্বক যথাযথভাবে পরীক্ষা করিতে হইবে।
জবাই খানার পরিবেশ
৬। এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি অনুযায়ী জবাইখানার পরিবেশ ও মান নির্ধারণ করিতে হইবে।
জবাইখানা, মাংস বিক্রয় স্থাপনা এবং মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপন
৭। এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি অনুসারে জবাইখানা, মাংস বিক্রয় স্থাপনা বা মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপন করিতে হইবে।
জবাইখানা, মাংস বিক্রয় স্থাপনা এবং মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপন, ইত্যাদির জন্য লাইসেন্স
৮।(১) কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা বিধিবদ্ধ সংস্থা ধারা ৯ এর অধীন লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতীত বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে জবাইখানা বা মাংস বিক্রয় স্থাপনা এবং মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপন করিতে বা পরিচালনা করিতে পারিবেন নাঃতবে, শর্ত থাকে যে, এই আইন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত কোন জবাইখানা বা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণের জন্য সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত মাংস বিক্রয় বা মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।(২) এই আইন কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা জবাইখানা, মাংস বিক্রয় স্থাপনা এবং মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপন বা আনুষঙ্গিক কার্যাবলী সম্পাদন করিয়া থাকিলে এই আইন কার্যকর হইবার অনধিক ৬(ছয়) মাসের মধ্যে ধারা ৯ এর উপ-ধারা (১) এ নির্ধারিত পদ্ধতিতে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করিতে হইবে।
লাইসেন্স প্রদান পদ্ধতি, ইত্যাদি
৯। (১) এই আইনের অধীন জবাইখানা, মাংস বিক্রয় স্থাপনা এবং মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপন করিবার জন্য কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা মহাপরিচালক বা তদকর্তৃক ক্ষমতা প্রদত্ত ভেটেরিনারী কর্মকর্তার নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে আবেদন করিতে পারিবেনঃতবে শর্ত থাকে যে, এতদুদ্দেশ্যে বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা লাইসেন্সের জন্য মহাপরিচালকের নিকট লিখিতভাবে আবেদন করিতে পারিবে।
লাইসেন্সের মেয়াদ ও নবায়ন
১০।(১) এই আইনের অধীন ইস্যুকৃত লাইসেন্সের মেয়াদ হইবে লাইসেন্স ইস্যুর তারিখ হইতে ১(এক) বৎসর ।(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত লাইসেন্সের মেয়াদ নবায়নের জন্য উহার মেয়াদ শেষ হইবার অন্যূন ৩০(ত্রিশ) দিন পূর্বে মহাপরিচালক কর্তৃক ধার্যকৃত নির্ধারিত ফিসসহ নির্ধারিত পদ্ধতিতে মহাপরিচালকের নিকট আবেদন করিতে হইবে।(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর মহাপরিচালক বা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে লাইসেন্স নবায়ন করিবেন।
লাইসেন্স স্থগিত ও বাতিলকরণ, ইত্যাদি
১১। এই আইন বা উহার অধীন প্রণীত বিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মহাপরিচালক বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ভেটেরিনারি কর্মকর্তা নিম্নবর্ণিত যে কোন কারণে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে লাইসেন্স স্থগিত বা রহিত করিতে পারিবেন, যদি লাইসেন্সধারী-(ক) এই আইন বা বিধির কোন বিধান বা লাইসেন্সে উল্লিখিত কোন শর্ত ভঙ্গ করিয়া থাকেন;(খ) এই আইনের অধীন কোন অপরাধের জন্য দন্ডিত হইয়া থাকেন; এবং(গ) দফা (ক) ও (খ) এ উল্লিখিত অযোগ্যতা গোপন করিয়া লাইসেন্স পাইয়া থাকেন।
প্রবেশ, পরিদর্শন, ইত্যাদির ক্ষমতা
১২ । (১) মহাপরিচালক বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, ভেটেরিনারিয়ান তাহাদের স্ব স্ব অধিক্ষেত্রে সময় সময়, তদবিবেচনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা সহকারে জবাইখানা, মাংস বিক্রয় স্থাপনা ও পরিবেশন স্থাপনা, মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা, অন্য কোন স্থান বা যানবাহনে প্রবেশ করিতে পারিবেন।(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিদর্শনকালে মহাপরিচালক বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ভেটেরিনারি কর্মকর্তা, বা, ক্ষেত্রমত, ভেটেরিনারিয়ান এই আইন অথবা বিধির সহিত অসামঞ্জস্যতা রহিয়াছে, এইরূপ কার্যক্রম ও অবস্থা পরিলক্ষিত হইলে এই আইন বা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।
জবাইখানা ও মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানার কর্মী ও মাংস বিক্রেতার স্বাস্থ্য
১৩। পশু জবাই, মাংস প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনের সহিত সংশ্লিষ্ট সকল কর্মী সংক্রামক অথবা ছোঁয়াচে রোগমুক্ত কিনা, তাহা উপযুক্ত চিকিৎসক কর্তৃক প্রত্যায়িত হইতে হইবে এবং উপযুক্ত চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্র জবাইখানা, মাংস বিক্রয় স্থাপনা, মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানার মালিক, ব্যবস্থাপক বা অন্য কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সংরক্ষণ করিবেন এবং প্রয়োজনে ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বা ভেটিরিনারিয়ানকে প্রদর্শন করিতে বাধ্য থাকিবেন।
পশু, মাংস ও মাংসজাত পণ্য পরিবহণ
১৪।(১) এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি অনুযায়ী পশু, মাংস ও মাংসজাত পণ্য পরিবহন ও বিপণন করিতে হইবে।(২) মহাপরিচালক অথবা তদকর্তৃক ক্ষমতা প্রদত্ত ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, ভেটেরিনারিয়ানের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, পশু, মাংস বা মাংসজাত পণ্য পরিবহনের সময় বিধি লঙ্ঘন করা হইয়াছে, তবে তিনি বিধি অনুযায়ী উক্ত পশু, মাংস ও মাংসজাত পণ্য বাজেয়াপ্ত, অপসারণ বা ধ্বংস করিতে অথবা অন্য কোন পদ্ধতিতে উহা নিষ্পত্তি বা বিলি বন্দোবস্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
পশু জবাই ও মাংস বিক্রয় নিষিদ্ধ দিবস
১৫। সরকার, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ করিবার লক্ষ্যে, সপ্তাহের যে কোন দিবসে পশু জবাই নিষিদ্ধ ঘোষণা করিতে পারিবে এবং এইরূপ নিষিদ্ধ দিবসে পশু জবাই বা মাংস বিক্রয় বন্ধের জন্য সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা আদেশ জারী করিতে পারিবেঃতবে শর্ত থাকে যে, মাংস অথবা মাংসজাত পণ্য রপ্তানীর ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য হইবে না।
জরুরী জবাই
১৬। ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বা ভেটেরিনারিয়ান যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, কোন পশু জরুরী ভিত্তিতে জবাইয়ের প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি উক্ত পশু পরীক্ষাপূর্বক সন্তুষ্ট হইয়া বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে জরুরী জবাইয়ের নির্দেশ দিতে পারিবেন।
ভক্ষণ অযোগ্য ঘোষণা
১৭। জবাইকৃত পশু পরীক্ষার পর যদি ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বা ভেটেরিনারিয়ান এর নিকট প্রতীয়মান হয় যে, সম্পূর্ণ কারকাস বা কারকাসের অংশ বা মাংস মানুষের ভক্ষণের জন্য অনুপযুক্ত, তাহা হইলে তিনি উক্ত সম্পূর্ণ কারকাস বা কারকাসের অংশ অথবা মাংস ভক্ষণ অযোগ্য ঘোষণা করিবেনঃতবে শর্ত থাকে যে, তিনি ভক্ষণ অযোগ্য ঘোষিত কারকাস অথবা আংশিক কারকাস অথবা মাংসকে বিধি অনুসরণপূর্বক এমনভাবে চিহ্নিত করিবেন, যাহাতে মানব খাদ্য চেইনে(Food chain)উহা কোনভাবেই প্রবেশ করিতে না পারে।
ভক্ষণ অযোগ্য ঘোষিত কারকাস বা আংশিক কারকাস বা মাংস বা অফাল অপসারণ বা ধ্বংসের নির্দেশ
১৮। ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বা ভেটেরিনারিয়ান কর্তৃক ভক্ষণ অযোগ্য ঘোষিত কারকাস বা আংশিক কারকাস বা মাংস বা অফাল বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে অপসারণ বা ধ্বংসের নির্দেশ দিতে পারিবেনঃতবে শর্ত থাকে যে, ভক্ষণ অযোগ্য ঘোষিত কারকাস অথবা আংশিক কারকাস বা মাংস মানুষের ভক্ষণের জন্য ব্যতীত অন্য কোন কাজে ব্যবহারের উপযুক্ত বলিয়া ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বা ভেটেরিনারিয়ানের নিকট প্রতীয়মান হইলে, তিনি উক্ত কারকাস, আংশিক কারকাস বা মাংস যে সকল কাজে ব্যবহার বা স্থানান্তর করিবার উপযুক্ত, তদমর্মে নির্দেশ প্রদানপূর্বক উক্ত কাজে ব্যবহার বা হস্তান্তরের জন্য জবাই খানা হইতে উহা লইয়া যাওয়ার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেনঃআরও শর্ত থাকে যে, উক্ত কারকাস, আংশিক কারকাস অথবা মাংস যেই কাজের জন্য ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে, তাহা ব্যতিরেকে অন্য কোন কাজে ব্যবহার করিলে অথবা ব্যবহার করিবার উদ্দেশ্যে বিক্রয় করিলে উহা এই আইনের লঙ্ঘন বলিয়া গণ্য হইবে।
ল্যাবরেটরিতে নমুনা প্রেরণের নির্দেশ প্রদান
১৯। ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বা ভেটেরিনারিয়ান কারকাস, আংশিক কারকাস, মাংস, ভক্ষণযোগ্য অফাল বা ভক্ষণ অযোগ্য অফাল বা অন্য কোন অংশ, ব্যবহৃত পানি, বরফ অথবা তাহার বিবেচনায় উপযুক্ত নমুনা সংগ্রহ করিতে অথবা করাইতে পারিবেন এবং উক্ত নমুনা সরকার কর্তৃক স্বীকৃত কোন ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ ও মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরি বা অনুরূপ কাজের জন্য সরকার কর্তৃক স্বীকৃত অন্য কোন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করিতে বা করাইবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
জবাইখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
২০। (১) এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি অনুযায়ী জবাইখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করিতে হইবে।(২) যদি ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বা ভেটেরিনারিয়ানের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, জবাইখানার কোন পশু বা বস্ত্ত হইতে নি:সৃত বা নির্গত বর্জ্য দ্বারা কোনভাবে কারকাস বা কারকাসের অংশ, মাংস বা অফাল দূষিত বা বিষাক্ত হইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি উক্ত বর্জ্য অপসারণ বা ধ্বংসের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
মান নির্ধারণ
২১। এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি মোতাবেক মহাপরিচালক নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহের মান নির্ধারণ করিয়া বিজ্ঞপ্তি জারী করিতে পারিবেন,যথাঃ-(ক) জবাইখানা, মাংস বিক্রয় স্থাপনা ও মাংস প্রক্রিয়াজাত কারখানার আকার, সুবিধাদি ও পরিবেশ সংক্রান্ত;(খ) জবাইখানা, মাংস বিক্রয় স্থাপনা ও মাংস প্রক্রিয়াজাত কারখানায় ব্যবহৃত পানি, বরফ, শীতলীকরণ পদ্ধতি ইত্যাদি;(গ) কারকাস, কারকাসের অংশ, মাংস প্রভৃতিতে জীবাণু, ভারী-ধাতব বস্ত্ত, বিষাক্তবস্ত্ত, হরমোন, প্রিজারভেটিভ, এন্টিবায়োটিক ইত্যাদির গ্রহণযোগ্য মাত্রা;(ঘ) গবাদিপশু যেমন গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, উট, দুম্বা অন্য কোন আইনে নিষিদ্ধ না থাকিলে খরগোশ ও হরিন ইত্যাদির চামড়া ছাড়ানো এবং সংরক্ষণের উপযুক্ত পদ্ধতি; এবং

(ঙ) দফা (ক) ও (খ) তে উল্লিখিত কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য মহাপরিচালকের বিবেচনায় অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম।

পশু বা মাংস বা মাংসজাত দ্রব্যাদি আটক ও অপসারণ করিবার ক্ষমতা
২২। যদি কোন ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বা ভেটেরিনারিয়ান তাহার আওতাধীন এলাকা পরিদর্শনকালে এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, এই আইন বা বিধি ভঙ্গ করিয়া পশু জবাই, জবাইকৃত পশু অথবা পশুর মাংস পরিবহন অথবা মাংস বা মাংসজাত পণ্য বিক্রয় করা বা পরিবেশন করা হইয়াছে, তাহা হইলে তিনি উক্ত পশু অথবা মাংস বা মাংসজাত পণ্য অথবা যানবাহন আটক করিতে পারিবেন অথবা আটক করিবার নির্দেশ দিতে বা বিধি অনুযায়ী অপসারণ করিতে বা করাইবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
অপরাধ ও বিচার
২৩। (১) যদি কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির কোন বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘন এই আইনের অধীন একটি অপরাধ হইবে।(২) এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) অনুসারে বিচার্য হইবে।
দন্ড
২৪ । (১) যদি কোন ব্যক্তি এই আইন অথবা তদধীন প্রণীত বিধির কোন বিধান লঙ্ঘন করেন বা তদনুযায়ী দায়িত্ব সম্পাদনে অথবা আদেশ অথবা নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে তিনি অনুরূপ লঙ্ঘন অথবা ব্যর্থতার দায়ে অনুর্ধ্ব ১(এক) বৎসর বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা অন্যূন ৫ (পাঁচ) হাজার এবং অনুর্ধ্ব ২৫,০০০ (পঁচিশ হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড, অথবা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হইবেন।(২) একই ব্যক্তি যদি পুনরায় এই আইন বা বিধির কোন বিধান লঙ্ঘন করেন বা তদনুযায়ী দায়িত্ব সম্পাদনে বা আদেশ বা নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে তিনি অনুরূপ লঙ্ঘন বা ব্যর্থতার দায়ে অনূর্ধ্ব ২(দুই) বৎসরের বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অন্যূন ১০ (দশ) হাজার ও অনুর্ধ্ব ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড, অথবা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হইবেন।
আপীল
২৫। Code of Criminal Procedure,1898 (Act V of 1898)এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন এক্সিকিউটিভ বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত কোন রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) অনুসারে আপীল করা যাইবে।
ক্ষমতা অর্পণ
২৬। মহাপরিচালক এই আইনের অধীন তাহার কোন ক্ষমতা অথবা দায়িত্ব প্রয়োজনবোধে, সাধারণ অথবা বিশেষ আদেশ দ্বারা তাহার অধস্তন যে কোন ভেটেরিনারি কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবেন, তবে সিটি করপোরেশন এলাকায় উহার নিজস্ব ভেটেরিনারিয়ান দ্বারা পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শন করিবেন।
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
২৭। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
রহিতকরণ ও হেফাজত
২৮। (১) এই আইন প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে The Animal Slaughter (Restriction) and Meat Control Act, 1957 (E.P. Act VIII of 1957)রহিত হইবে।(২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও, এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে রহিতকৃত আইনের অধীন কোন কার্য অথবা কার্যধারা নিষ্পন্নাধীন থাকিলে, উক্ত কার্য বা কার্যধারা উক্ত রহিতকৃত আইনের বিধান অনুসারে এইরূপে নিষ্পত্তি করিতে হইবে, যেন এই আইন প্রবর্তিত হয় নাই।

সৌজন্যেঃ http://bdlaws.minlaw.gov.bd

লেখকঃ ডাঃ তায়ফুর রহমান

ডাঃ তায়ফুর রহমান;
ডিভিএম, এম এস ইন ফার্মাকোলজী (বাকৃবি);
ফিল্ড রিসার্চ অফিসার,
জুনোটিক ডিজিজ রিসার্চ গ্রুপ;
আইসিডিডিআর,বি (icddr,b); এবং
ব্লগ এডমিনিষ্ট্রেটর, ভেটসবিডি

এটাও দেখতে পারেন

পশুখাদ্য বিধিমালা, ২০১৩

মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ এর ধারা ২২ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার পশুখাদ্য বিধিমালা, ২০১৩ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *