নীড় / বিবিধ / সংবাদ / শীতে বার্ড-ফ্লু বাড়ার আশঙ্কা

শীতে বার্ড-ফ্লু বাড়ার আশঙ্কা

আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে বার্ড-ফ্লু’র টিকা ব্যবহারের অনুমতি। গত বছরের অপেক্ষাকৃত লঘু মাত্রার বার্ড-ফ্লু’র এবং চলতি বছরে ভয়াবহ মাত্রার সংক্রমনে দেশীয় পোল্ট্রি শিল্প ভয়াবহ সঙ্কটের মুখে পড়েছে। খবরটি অবশ্যই সুখকর নয়। দেশের অর্থনীতি এবং একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য দুঃসংবাদ বলা যেতে পারে।
আসন্ন শীতে বার্ড-ফ্লু’র প্রাদুর্ভাব আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, শুধু বায়োসিকিউরিটি মেনে বার্ড-ফ্লু ঠেকানো অসম্ভব। শীত মৌসুমে পোল্ট্রি খাত রক্ষা করতে অক্টোবরের মধ্যে ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছেন খামারিরা ।
এ প্রসঙ্গে ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ সভাপতি মশিউর জানান, বার্ড ফ্লু’র টিকা বা ভ্যাকসিন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ার অনেকগুলো ধাপ এখনো বাকি। শীত মৌসুম চলে আসছে। এ অবস্থায় খামারিরা তাঁদের খামারের নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
তিনি বলেছেন, গত জুন মাসে পরীক্ষামূলকভাবে বার্ড-ফ্লু’র টিকা আমদানির ঘোষণা দিয়েছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস। ওই সময় জানানো হয়েছিল জুলাই মাসে আমদানির জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আদৌ কোনো টিকা আমদানি হয়েছে কিনা কিংবা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোন টিকাটি কার্যকর প্রমানিত হয়েছে; পোল্ট্রি খামারি কিংবা সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে তার কিছুই জানানো হয়নি।
বার্ড-ফ্লু ঠেকাতে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে এখন পর্যন্ত কোন ব্রিফিং হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের কোন ক্ষতিপূরনও দেওয়া হয়নি। সুদের হার কমানো কিংবা সুদ মওকুফ করা হয়নি। তাই অনেকেই এ পেশা ছেড়ে চলে গেছেন। অধিকাংশ খামারি এখনও উৎপাদনে ফিরে আসতে পারেননি। বার্ড ফ্লু প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রয়োজনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী এমনকি সেনাবাহিনীকেও কাজে লাগানো যেতে পারে মনে করছেন পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, আমেরিকা প্রভৃতি দেশেও সেনাবাহিনীকে এ ধরনের কাজে লাগানোর নজির আছে বলে জানা গেছে।
দেশের পোল্ট্রি খামার গুলো অর্থনীতিতে শুরু থেকে বিশেষ অবদান রেখে আসছে। প্রায় দেখা যায় বার্ড-ফ্লু সংক্রমিত কারণে দেশের পোল্ট্রি শিল্প অস্থির হয়ে পড়ে। বর্তমান একটি মুরগির ডিমের মূল্য ১০ টাকা। অর্থ্যাৎ এক হালি ডিমের মূল্য পড়ছে ৪০ টাকা। তাহলে বিষয়টি কী দাঁড়ালো? পোল্ট্রি শিল্পকে স্থির রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ অতীব জরুরী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশা প্রকাশ করছি।

লেখকঃ হৃদ রহমান

এটাও দেখতে পারেন

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে বিভিএ-র সম্মেলন

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন-এর বিভাগীয় সম্মেলন। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠা লাভের পর এবারই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *