নীড় / পোল্ট্রী / এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিনঃ আমরা কি চেয়েছিলাম আর সরকার কি করতে যাচ্ছেনঃ

এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিনঃ আমরা কি চেয়েছিলাম আর সরকার কি করতে যাচ্ছেনঃ

এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিনঃ আমরা কি চেয়েছিলাম আর সরকার কি করতে যাচ্ছেনঃ

প্রিয় পাঠক, ভেটেরিনারিয়ান, খামার ও হ্যাচারী মালিক ভাইয়েরা আপনারা ভেটস বিডির মাধ্যমে আমার এ সংক্রান্ত একটা আর্টিকেল পড়েছেন। সেই লেখাতে আমি এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন করার পক্ষে বলেছিলাম। বিষয়টি যাতে বিতর্কের সৃষ্টি না করে  তাই এখানে আবারও ১৭ ও ১৮ নং অনুচ্ছেদ  হুবহু তুলে ধরছি:
যেহেতু সরকারের গৃহিত চলমান পদক্ষেপ সমূহ এই শিল্পকে এখনও একটা  স্থিতিশীল  পর্যায়ে আনতে পারেনি তাই বিদ্যমান গৃহিত চলমান পদক্ষেপ সমূহের পাশাপাশি খামারীদের সর্বশেষ দাবি ও পন্থা হিসেবে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার কার্য্যকর কিল্ড ভ্যাকসিন তৈরী করে তা প্রয়োগ করা জরুরী। এই ক্ষেত্রে আমাদের দরকার  বিশ্বমানের  BSL-3  (বায়ো সেইফটি লেভেল-৩)  মানের  ল্যাব স্থাপন করা যেখানে আমাদের দেশের ভাইরোলজিষ্টরাই এই রোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় গবেষনা কাজ করতে পারবেন। আর এটা করতে যে সময় লাগবে সেই সময়ের মধ্যে আমরা ফাইজার, ইন্টারভেট, মেরিয়াল ইত্যাদি কোম্পানি হতে আমাদের দেশের যে সকল জীবানু পাওয়া গেছে তা পাঠিয়ে কিল্ড ভ্যাকসিন তৈরী করে তা এনে প্রয়োগ করা যেতে পারে। আমাদের দেশের যে সকল মাইক্রোবায়োলজিস্ট আছেন তাদের অনেকেই বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে  ভ্যাকসিন বিষয়ে গবেষনা করে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে। তাহলে আমরা কেন তাদেরকে কাজে লাগাতে পারছি না। যদি সরকার তা করতে চান তাহলে আগামী বাজেটে  BSL-3 (বায়ো সেইফটি লেভেল-৩) মানের  ল্যাব স্থাপনের  জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্ধ করতে হবে অথবা বেসরকারী পর্যায়ে যাতে স্থাপন করা যায় সেই ধরনের উদ্যোগ সরকারকেই  গ্রহন করতে হবে। এই ব্যাপারে ময়মসসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগে কর্মরত সম্মানিত শিক্ষক-বিজ্ঞানী এবং দেশের অন্যান্য গবেষনা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মাইক্রোবায়োলজিস্টদের সহায়তায় এই রোগের বিষয়ে গবেষনা এবং প্রতিরোধের বিষয়ে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। এই ব্যাপারে  সরকারকেই সবার আগে দায়িত্ব নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডেকে গবেষনার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এই ধরনের গবেষনার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে দেশে নতুন নতুন রোগের কারন নির্নয় ও এর দ্বারা কার্য্যকর ভ্যাকসিন  তৈরী করা যাবে এবং বাইরে থেকে যে সকল ভ্যাকসিন আমদানি করা হয় তা আমাদের কোন উপকারে আসছে কি না তাও পরীক্ষা করে দেখা যাবে। এর ফলে আমাদের দেশের গবেষকরা আরও উন্নতি করবে, দেশের অনেক  বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রোধ হবে এবং আমাদের এই শিল্পটিও রক্ষা পাবে।

  ভ্যাকসিন করার পাশাপাশি সরকারী ও বেসরকারীভাবে সারভিল্যান্স জোরদার করতে হবে। ভ্যাকসিন দেওয়ার পরও যদি কোন রোগের লক্ষন প্রকাশ পায় আর তা যদি বার্ড ফ্লু হয়ে থাকে সংগে সংগে  নিধন করতে হবে এবং ভ্যাকসিন কেন কাজ করল না অথবা নতুন কোন স্ট্রেইন কি না তা বের করে পূনরায় ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। এখানে একটা বিষয় অনেকেই ভুলভাবে উপস্থাপন করে থাকেন যে, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন করলে মুরগি মারা যাবে না কিন্তু ভ্যাকসিন দেয়া মুরগি থেকে ভাইরাসটি মানুষে ছড়াতে পারে এবং মিউটেশন হয়ে নতুন ভাইরাস হতে পারে । এই ধারনাটি ভুল। আমাদের জানতে হবে ভ্যাকসিনটি কি ধরনের এবং তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কোন পর্যায়ের। সাধারনত কোন ভ্যাকসিন প্রয়োগ করার পর প্রাণিদেহে ঐ ভ্যাকসিনের জীবানুর বিরুদ্ধে দুই ধরনের রোগ প্রতিরোধী এন্টিবডি তৈরী হয়। এক. হিউমোরাল এন্টিবডি যা রক্তের মাধ্যমে দেহে অবস্থান করে, দুই. সেলুলার এন্টিবডি যা প্রাণিকোষে অবস্থান করে। কিল্ড ভ্যাকসিনগুলো থেকে আমরা  হিউমোরাল এন্টিবডিই বেশী পাই। এই এন্টিবডিগুলো প্রাণিদেহে রক্তে সর্বদা প্রহরীর মতো কাজ করে। যখনি ঐ জীবানু দেহে প্রবেশ করে সংগে সংগে দেহের রক্তে অবস্থিত এন্টিবডি দ্বারা তা ধ্বংস হয়ে যায় অথবা রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়, ফলে প্রাণিতে কোন সমস্যা হয় না, এতে ক্ষতিকর জীবানুর লোড ও কমে যায়।

যদি দেহে তৈরী এন্টিবডির তুলনায় ফিল্ড ভাইরাসের লোড বেশী হয়ে যায় অথবা ভ্যাকসিনটি যদি কোন কারনে প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধী এন্টিবডি তৈরী করতে না পারে তাহলে একটা নির্দিষ্ট সময় পর রোগের লক্ষন প্রকাশ পাবে। তখন দেখতে হবে এটা অন্য কোন স্ট্রেইন দ্বারা হলো কি না বা বিদ্যমান ভাইরাসটি তার প্রকৃতি পরিবর্তন করল কি না। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে পূনরায় ঐ স্ট্রেইনের ভ্যাকসিন তৈরী করতে হবে। এই জন্য ভ্যাকসিন করার পর মুরগিকে নিবিড় পর্যবেক্ষনে  রাখতে হবে। আর একটা বিষয় মনে রাখতে হবে সকল ভাইরাল ভ্যাকসিন ৮০-৮৫% এর বেশী কার্য্যকর নয়। তাই ভ্যাকসিন করে ৮০ ভাগ সফল হলে বাকি ২০ ভাগ জীবনিরাপত্তা ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে সফল করতে হবে। সকল ভ্যাকসিনের বেলায়ই এ কথাটি প্রযোজ্য।  যেহেতু এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের স্ট্রেইনগুলো প্রকৃতিগত কারনেই একে অপরকে প্রতিরোধ করতে পারে না তাই যে স্ট্রেইন দ্বারা রোগের সৃষ্টি সেই স্ট্রেইন দ্বারা তৈরী ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হবে। ভ্যাকসিনটি কিল্ড হতে হবে। কিল্ড ভ্যাকসিনের ভাইরাস মৃত হওয়ায় ভ্যাকসিন ভাইরাস কোন রোগ সৃষ্টি করবে না এবং এটির মিউটেশনের কোন সুযোগ নাই।
সুধি পাঠক,
 এই দাবির কারনে সরকার গত জুলাই মাসে ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে এবং পরিচালক, প্রশাসন ও প্রাণি স্বাস্থ্য ডাঃ মুসাদ্দেক হোসেনকে প্রধান করে সাত সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেন। এই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী  ২ টি কিল্ড ও ২ টি ভেকটর ভাইরাস ভ্যাকসিন বাছাই করা হয় যা পরীক্ষা মূলক ভাবে ২ টি হ্যাচারী/ব্রীডার ফার্ম ও ৪ টি বানিজ্যক লেযার খামারে দেওয়া হবে। ২ টি ভ্যাকসিন দেওয়ার পর ল্যাবে এন্টিবডি লেবেল দেখে আমাদের দেশীয় স্ট্রেইন দিয়ে চ্যালেঞ্জ দেওয়া হবে। এই চ্যালেঞ্জ এ যে ভ্যাকসিন গুলো ভাল ফলাফল দেখাবে সেই ভ্যাকসিন গুলো পরবর্তিতে একটা নির্দিষ্ট এলাকার জন্য বাছাই করা হবে। খুব ভাল লাগছে লেখাগুলো পড়তে। এ পর্যায়ে সরকারকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিৎ। কিন্তু দিতে পারছিনা বলে আমি দুঃখিত। কারন সরকার হঠাৎ করেই কমিটির এই সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য পুরো গাজীপুর জেলা ও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় ভ্যাকসিনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করায় খামারীদের মতো আমিও হতাশ। কারন এই ভ্যাকসিন যদি কার্যকর না হয় তাহলে আমাদের খামারীর প্রায় ১০০ কোটি টাকা নেহাত চলে যাবে। যা দিয়ে লোকাল আইসোলেট থেকে এই ভ্যাকসিন তৈরীর জন্য বিশ্বমানের একটি ল্যাব স্থাপন করা যাবে এবং এর দ্বারা আমাদের খামারীরা অতি অল্প খরচে অধিক কার্যকর ভ্যাকসিন পাবে

এবার  কি কি ভ্যাকসিন আমরা দিতে যাচ্ছি তার কিছু ধারনা দিচ্ছিঃ

১। H5N2 কিল্ড ভ্যাকসিন, ইন্টারভেট, বাংলাদেশে সোল এজেন্ট বেঙ্গল ওভারসিজ : এটি আমাদের দেশের বিদ্যমান স্ট্রেইনের সাথে কোন মিল নেই, কেবল মাত্র H5 এর সাথে মিল থাকায় এটি কতটুকু কার্যকর হবে তা কেবল চ্যালেঞ্জ দিলেই বলা যাবে।

২। H5N1, ক্লেড ২.২.১ কিল্ড ভ্যাকসিন, চায়না স্ট্রেইন, মেরিয়াল কর্তৃক তৈরী , বাংলাদেশে বাজারজাত করবেন এডভান্স এনিম্যাল সাইন্স কোম্পানি লিমিটেড: এই ভ্যাকসিনটি যদিও আমাদের দেশের প্রাপ্ত স্ট্রেইন এর সাথে মিল আছে কিন্তু ক্লেডের সাথে কোন মিল নেই। আমাদের দেশের ক্লেড হলো ২.৩.২.১। কাজেই এই ভ্যাকসিনও কার্যকর হবে নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। কেবল মাত্র চ্যালেঞ্জ দিলেই নিশ্চিৎ হওয়া যাবে।

৩। ভেকটর ভাইরাস ভ্যাকসিন/লাইভ: একটি হলো মারেক্স (লায়ো মারেক্স-এইচবিটি) এর সাথে এবং অন্যটি হলো পক্স এর সাথে। এই দুটি ভ্যাকসিন সিবার বায়োমিউন কোম্পানি  তৈরী করছে এবং বাংলাদেশে এসিআই বাজারজাত করবেন। এই ভ্যাকসিন দুটি যারা একদিন বয়সী লেয়ার বাচ্চা উৎপাদন করেন তাদের হ্যাচারীতে প্রয়োগ করা হবে। এগুলি H5N1। এই ভ্যাকসিন গুলো পূর্বে আলোচিত ভ্যাকসিনের তুলনায় এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার বিরুদ্ধে ভাল কাজ করলেও খামারীরা লেয়ার বাচ্চায় মারেক্সের বিরুদ্ধে কার্যকর ফলাফল পাবে না। হ্যাচারী মালিকদের লেয়ার বাচ্চার বেলায় মূল সমস্যা হলো মারেক্স। কারন এই রোগ হলে খামারীরা সরাসরি হ্যাচারীতে ভাল ভ্যাকসিন ব্যবহার না করার অভিযোগ এনে থাকেন। লিকুইড নাইট্রোজেনে সংরক্ষিত ক্রায়ো মারেক্স ভ্যাকসিন প্রয়োগ ছাড়া এই রোগের বিরুদ্ধে অন্য কোন ভ্যাকসিন ভাল ফল পাওয়া যাবে না। আবার ২ টি ভ্যাকসিন ব্যবহার করলে একদিন বয়সী বাচ্চায় মারাত্নক ধকল পড়বে যা পরবর্তিতে বাচ্চার সমস্যা হতে পারে। আবার কেউ বলে থাকেন এটা ক্রায়ো মারেক্সের সাথে একই ডাইলুয়েন্টে ব্যবহার করা যায় যদিও এর কোন লিখিত ডকুমেন্ট নাই। পক্সের সাথে দিলেও একদিন বয়সী বাচ্চায় মারেক্স সহ ২টি ভ্যাকসিন হবে। আবার এই ভ্যাকসিনগুলো অবস্যই স্পেসিফিক প্যাথোজেন ফ্রি ফ্লকে ব্যবহার করতে হবে। তাই একদিন বয়সী বাচ্চাই হলো এই ভ্যাকসিন গুলো করার জন্য উপযুক্ত। তাই কিভাবে এই ভ্যাকসিন গুলো প্রয়োগ ও কার্যকর হবে তা নিয়ে এখনও কোন পরিস্কার ধারনা দেওয়া হয়নি।

      তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম ভ্যাকসিন কাজ করবে, তাহলে কয়টা ভ্যাকসিন করতে হবে? বলা হচ্ছে ৩ থেকে ৪ বার করতে হবে। কিন্তু  এই ভ্যাকসিন গুলো করার পর এইচ আই করে টাইটার নির্নয় করে জানতে হবে ভ্যাকসিন কয়বার দিতে হবে। রানীক্ষেতের মতো নিয়মিত HI টেস্ট করে ভ্যাকসিন লাগবে কি লাগবে না দেখতে হবে। কিন্তু এতে অনেক খরচ হবে এবং এই ধরনের টেস্ট এর জন্য দেশে সরকারী/বেসরকারী পর্যায়ের ল্যাবে টেস্ট করার সুযোগ রাখতে হবে। এই টেস্ট করতে যে এন্টিজেন লাগবে তা অনেক দামী। তাই যারা ভ্যাকসিন সরবরাহ করবেন তারাই এই এন্টিজেন  সরবরাহ করবেন এটা সরকারকে  নিশ্চিৎ করতে হবে। তা নাহলে আমরা সকলে অন্ধকারেই থেকে যাবো, জানবোনা আমার মুরগি কতটুকু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করলো।
অন্যদিকে ভ্যাকসিন কার্যকর হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই দেখা গেল নতুন করে রোগ হচ্ছে, তখন যদি দেখা যায় রোগ সৃষ্টিকারী  সার্কোলেটিং ভাইরাসটি মিউটেট হয়ে নতুন একটি স্ট্রেইন হয়েছে তখন আমরা  কি করবো? স্টেম্পিং আউট? এটি তো ২/১ টি খামারে হলে। অধিকহারে এই রোগ হতে থাকলে তখন আমাদের ঐ স্ট্রেইনের ভ্যাকসিন ছাড়া কাজ হবে না। কিন্তু তখন কি এই সকল কোম্পানি আমাদের জন্য এই ধরনের জীবানুর ভ্যাকসিন দ্রুত দেওয়ার জন্য তৈরী থাকবে ? এক বাক্যে বলে দেওয়া যায় “ না”। যদি না থাকে তাহলে আমরা কি করবো? আবার H5N1 এর বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন কাজ করলেও এইচ৯ এর বেলায় কি হবে? কারন এটিও তো দীর্ঘসময় ধরে খামারে সমস্যা ঝিইয়ে রাখে। এগুলোর কার্যকর কোন বিধিবিধান না করেই যদি ভ্যাকসিনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয় তাহলে এই ভ্যাকসিন কার্যকর কোন ফল বয়ে আনবে না। আর যখন এই কার্যক্রম সফল না হবে তখন সরকারের লোকজন বলতে শুরু করবে “আমরা আগেই বলেছিরাম ভ্যাকসিন কোন কাজ করবে না।” খামারীদের কার্যকর কোন ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা না করে কোন ভাবে যেনতেন একটা ভ্যাকসিন দিয়ে খামারীদের দাবি পূরনের একটা ফায়দা নেবে আর এই ভ্যাকসিনে কাজ না  হলে সেই দায়দায়ীত্বও খামারীদের উপর চাপিয়ে সরকার তার দায় এড়াতে চায়।
 সরকারের গৃহিত এই মহতি কার্যক্রম যাতে আরও সুন্দর ও সফল ভাবে সম্পন্ন করা যায় তার জন্য আমার কিছু সুচিন্তিত মতামত নিন্মে তুলে ধরলাম-

১। সিলেকেটড ভ্যাকসিন গুলো সারা গাজীপুর ও কিশোরগঞ্জে না দিয়ে কেবল মাত্র ২টি হ্যাচারী, ২ টি ব্রীডার ফার্ম ও চারটি বানিজ্যক লেয়ার খামারে পরিক্ষামূলক প্রয়োগ করা হোক।

২। পরিক্ষামূলক ভ্যাকসিন করার পর নিয়মিত মনিটরিং,সারভিল্যান্স ও টেস্ট কওে যদি  উন্নতমানের এন্টিবডি পাওয়া যায় তাহলে আমাদের দেশে বিদ্যমান স্ট্রেইন দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিতে হবে এবং তার প্রকৃত ফলাফল যাচাই বাছাই করার পর যে ভ্যাকসিনটি অধিক কার্যকর সেই ভ্যাকসিনটি পরবর্তিতে ১/২ টি জেলাতে প্রয়োগ করা যেতে পারে।

৩। ভ্যাকসিন করার পর খামারীরা যাতে সহজে সূলভে সরকারী/বেসরকারী  ল্যাবে এইচ আই টেস্ট করে জানতে পারে ফ্লকে তার পরবর্তি ভ্যাকসিন লাগবে কি লাগবে না।

৪। ভ্যাকসিন করার পর যদি H9 এর কোন সমস্যা দেখা যায় সেই ক্ষেত্রে একটি বাস্তব ও বিজ্ঞান সম্মত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে অথবা H9 এর ভ্যাকসিন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

৫।  পরিক্ষা মূলক ভ্যাকসিনটি  কার্যকর হোক আর না হোক আমরা যাতে লোকাল আইসোলেট থেকে কার্যকর কিল্ড ভ্যাকসিন তৈরী করতে পারি সেই ধরনের ব্যবস্থা অর্থাৎ বায়োসেইফটি লেবেল ৩ মানের একটা ল্যাবরেটরি স্থাপন  করা হোক যেখান থেকে আমাদের দেশীয় বিজ্ঞানীরা দেশীয় স্ট্রেইন থেকে কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরী করে দ্রুত সময়ে খামারীদের মাঝে সরবরাহ করতে পারেন। এতে একদিকে আমাদের এই শিল্পটি রক্ষা পাবে, অন্যদিকে আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা নিজেদেরকে আরও বিকশিত করার পাশাপাশি প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রোধ করে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালি করতে পারবেন।

৬। দেশীয় হাঁস মুরগি বানিজ্যক ভাবে পালনের এবং এগুলোকেও ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে।

৭। পোল্ট্রি নীতিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

৮। বায়োসিকুরিটি আরও জোরদার করতে হবে।

                                                                                    সবাইকে ধন্যবাদ

লেখকঃ ডাঃ মোহাম্মদ সরোয়ার জাহান

তিনি ডি.ভি.এম ও এম.এস. ইন মাইক্রোবায়োলজি ডিগ্রী অর্জন করেছেন বাকৃবি, ময়মনসিংহ থেকে। বর্তমানে টেকনিক্যাল ম্যানেজার হিসেবে ফিনিক্স হ্যাচারী লিমিটেড-এ কর্মরত। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি মাইক্রোবায়োলজি এণ্ড পাবলিক হেল্থ-এর আজীবন সদস্য। যোগাযোগঃ ০১৭১১৬১৮৫৯৩,০১৯১৬২০৩২৪৬, dr.sorwar@yahoo.com

এটাও দেখতে পারেন

জাতীয় স্বার্থে পোল্ট্রি শিল্পের জন্য কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবী

বড় দুঃসময় পার করছি আমরা যারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খামার মালিক, ফিডমিল মালিক, হ্যাচারী মালিক, মেডিসিন …

৩ মন্তব্য

  1. Thank you Dr Jahan. It’s a very thoughtful and scientific article.

  2. ভালো লিখেছেন ভাই, এধরনের লেখা আরো বেশি বেশি চাই।
    কিছু অসাধু কর্মকর্তা আর কিছু মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীদের কারসাজিতেই এই সেক্টরটা নষ্ট হয়ে গেল। যখন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে এই শিল্পটাকে পুনজ্জীবিত করার সময় তখন এধরনের কার্যক্রম নিজের পায়ে কুঠার মারার সমান। এই ভ্যাকসিনেশনের ফলে যদি শিল্প আরো ধ্বংসের মুখে পতিত হয় তবে তার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিৎ। আমি পোল্ট্রি শিল্প মালিক সমিতির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

  3. yet It is very important article . need to be update.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *