নীড় / পোল্ট্রী / পোল্ট্রি রোগ নির্ণয় / মুরগির এসপারজিলোসিস রোগ পরিচিতি

মুরগির এসপারজিলোসিস রোগ পরিচিতি

পোল্ট্রির রোগ পরিচিতিতে আজ এসপারজিলোসিস রোগ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করব।

Aspergillosis মুরগির বাচ্চার শ্বাসতন্ত্রের একটি রোগ। যা হাঁসের বাচ্চা বা কবুতরের বাচ্চাতেও হতে পারে। এটা সাধারনত ৭-৪০ দিনের বাচ্চাতে হযে থাকে।

কারনঃ

Aspergillus fumigatus নামক এক ধরণের ছত্রাকের আক্রমনে এ রোগ হয়ে থাকে।  তবে এ রোগটি হ্যাচারী থেকেও সরাসরি বাচ্চাতে সংক্রমিত হতে পারে। সংক্রমনটির ইনকিউবেশন পিরিয়ড ২ থেকে ৫ দিন। আক্রান্ত হওয়ার হার ১২% পর্যন্ত হতে পারে এবং মৃত্যুর হার ৫-৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

ছড়ানোঃ

বাতাসের মাধ্যমে ছত্রাকটির স্পোর ছড়িযে শ্বাসনালীর মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে। বাচ্চা থেকে বাচ্চায় ট্রানস্‌মিশন খুব কম। আর এই স্পোরগুলো জীবাণুনাশকের বিরুদ্ধে খুবই রেজিষ্ট্যাণ্ট। খাবারে আর্দ্রতার পরিমান বেশি হলে সংক্রমনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়।

লক্ষণঃ

  • Acute বা তীব্র প্রকৃতিতে:
    • অরুচী
    • দূর্বলতা
    • Silent gasping বা ধীরে ধীরে হাঁপানো
    • দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া
    • পিপাসা
    • ঝিমানো
    • Nervous signs (rare).
  • Chronic বা ধীর্ঘস্থায়ী প্রকৃতিতে:
    • Ocular discharge (ocular form only).
    • Wasting

পোস্টমর্টেম লক্ষণ: (টেকনিক্যাল কারণে বঙ্গানুবাদ করা হলো না)


  • Lungs: uniform raised yellowish nodules
  • Air sac: Thickening,Cloudy and yellowish plaque
  • Live,Spleen and Kidney: Necrotic focci
  • Brain: White to yellowish necrotic focci. Brain lesions may be seen in some birds with nervous signs.
  • Conjunctivitis/keratitis.

রোগ নির্ণয়ঃ

সাধারণতঃ রোগের লক্ষণ, পোস্টমর্টেম এবং ফুসফুসের microscopic examination , preferably after digestion in 10% potassium hydroxide. এটা নিশ্চিত করা যেতে পারে ফুসফুসকে আলাদা করে ছোট ছোট করে কেটে তা Sabouraud agar-এ ডুবিয়ে দিলে ২৪-৪৮ ঘণ্টা পর সবুজ/নীল বর্ণের পাউডার সদৃশ কলোনি দেখে। Differentiate from excessive exposure to formalin or vaccinal reactions in day olds and from heat stress in older birds.

চিকিৎসাঃ

চিকিৎসা নেই বলে ধরে নেয়া হয়। তবে ছত্রাক নাশক স্প্রে করা যেতে পারে। মূল্যবান গেম বার্ডে Amphotericin B ও Nystatin বা Miconazole ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রতিরোধঃ

শুষ্ক লিটার, খাদ্য এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাই এ রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়।

 

প্রিয় পাঠক, কেমন লাগল? ভালো লাগলে নিচে কমেন্ট করুন, না লাগলেও করুন।

লেখকঃ ডাঃ তায়ফুর রহমান

ডাঃ তায়ফুর রহমান
ডাঃ তায়ফুর রহমান; ডিভিএম, এম এস, এমপিএইচ ; ন্যাশনাল কনসালটেন্ট, প্রাণীস্বাস্থ্য গবেষণা বিভাগ, বিএলআরআই, সাভার, ঢাকা; প্রাক্তন ফিল্ড রিসার্চ অফিসার, আইসিডিডিআর,বি; এবং ব্লগ এডমিনিষ্ট্রেটর, ভেটসবিডি

এটাও দেখতে পারেন

মুরগির লিভারের রোগ: লিম্ফয়েড লিউকোসিস

লিম্ফয়েড লিউকোসিস মুরগীর টিউমার সৃষ্টিকারী ভাইরাস রোগ। এ রোগের ক্ষেএে টিউমার সৃষ্টি হয় এবং রেট্রো …

৬ মন্তব্য

  1. Avatar

    Valo laglo pore.Treatment ta bole debar jonno tnx.

  2. Avatar

    Ai rog hole oneke Coper sulfate use kore (1 gm/2 L water). Aita koto-tuku jouktic. Treatmen ta thik hoya thakle er mode of action ki ?

    • ডাঃ তায়ফুর রহমান (এডমিন)
      ডাঃ তায়ফুর রহমান (এডমিন)

      MOA টা জানি না, তবে এর antifungal action আছে। বস্তুতঃ কপারের germicidal action রয়েছে। এটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক সবই ধ্বংস করতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে দরজায় কাঠ বা অন্য কোন ধাতু নির্মিত হাতলের চেয়ে কপার নির্মিত হাতলে জীবানু অনেক কম থাকে। হিন্দুরা গঙ্গার জলকে এত নিরাপদ বলে কেন জানেন? কারণ ওরা আদিকাল থেকেই কাঁসার গ্লাসে পানি খায়, আর কাঁসায় তো তামা থাকেই। ফলে সেই তামা বেশিরভাগ জীবানুকেই ধ্বংস করে।

  3. Avatar

    Thanks. Ganga-Jol er bapar ta notun janlam !!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.