নীড় / বিবিধ / আইন ও নীতিমালা / জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা ২০০৮ (২য় পর্ব-সংজ্ঞাসমূহ, পোল্ট্রি নীতির উদ্দেশ্যাবলী, প্রয়োগ ও পরিধি)

জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা ২০০৮ (২য় পর্ব-সংজ্ঞাসমূহ, পোল্ট্রি নীতির উদ্দেশ্যাবলী, প্রয়োগ ও পরিধি)

২.০ সংজ্ঞাসমূহ

২.১ পারিবারিক পোল্ট্রিঃ পারিবারিক পোল্ট্রি বলতে উন্মুক্ত (Scavenging) বা অর্ধ-উন্মুক্ত (Semi-scavenging) অবস্থায় পরিবারের সমস্যদের শ্রমের মাধ্যমে পালিত পোল্ট্রিকে বুঝায়, যা পরিবারের আয় ও খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

২.২ বাণিজ্যিক পোল্ট্রিঃ বাণিজ্যিক পোল্ট্রি বলতে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ আবদ্দ অবস্থায় মেঝেতে (Floor) অথবা খাঁচায় (Cage) প্রতিপালিত অধিক উৎপাদনশীল (ডিম ও মাংস) বাণিজ্যিক প্রজাতির পোল্ট্রিকে বুঝায়। ভ্রবসায়িক উদ্দেশ্যে ১০০ বা তদূর্ধ্ব সংখ্যক পোল্ট্রি পালন বাণিজ্যিক পোল্ট্রি হিসেবে গণ্য হবে।

২.৩ অর্গানিক পোল্ট্রিঃ খামারে কীটনাশক, এন্টিবায়োটিক, হরমোন, Growth Promoter/ Feed additives বা অন্য কোন ঔষধ ব্যবহার ব্যতিরেকে ক্লেশ ও পীড়নমুক্ত পরিবেশে জৈব খাদ্যে (Genetically Modified Organism ব্যতিত) প্রতিপালিত খামারের পোল্ট্রিকে অর্গানিক পোল্ট্রি বুঝাবে।

৩.০ জাতীয় পোল্ট্রি নীতির উদ্দেশ্যাবলী

৩.১ উৎপাদনঃ

৩.১.১ প্রাণীজ আমিষের জাতীয় চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পোল্ট্রি ও পোল্টিজাত দ্রব্যাদির বিশেষতঃ ডিম ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি;

৩.১.২ স্বাস্থ্যসম্মত এবং মানসম্মত ডিম, মাংস ও পোল্টিজাত দ্রব্যাদির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি;

৩.১.৩ পর্যায়ক্রমে পোল্ট্রি খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন;

৩.১.৪ বাংলাদেশের আবহাওয়া  উপযোগী উন্নত কৌলিক মানের পোল্ট্রি জাত উন্নয়ন/ উদ্ভাবন;

৩.২ উদ্যোক্তা উন্নয়নঃ

৩.২.১ পোল্টি ও পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি;

৩.২.২ কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভূমিহীন ও প্রান্তিক চাষী, বেকার যুবক, দুঃস্থ মহিলাদের পোল্ট্রি পালনে উদ্বুদ্ধ করা এবং সুযোগ সৃষ্টি ও পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন করা;

৩.২.৩ সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভাসহ সকল বাজারে জীবন্ত মুরগি বিক্রয় স্থলের (Live bird market) জীব নিরাপত্তা উন্নয়নের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ সৃষ্টি;

৩.২.৪ পোল্ট্রি ও পোল্টিজাত দ্রব্যাদির বাজার সৃষ্টি এবং রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন;

৩.২.৫ জীব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতঃ উপযুক্ত স্থানে পরিবেশ-বান্ধব খামার স্থাপন;

৩.২.৬ পোল্ট্রি খাতে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি;

৩.২.৭ পোল্ট্রি খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন;

৩.৩ সম্প্রসারণঃ

৩.৩.১ পোল্ট্রির বাচ্চা, খাদ্য, ঔষধ ও টিকার মান নিয়ন্ত্রণ;

৩.৩.২ পোল্ট্রি খাতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ;

৩.৩.৩ পোল্ট্রি স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ;

৩.৩.৪ পোল্টি ও পোল্ট্রিজাত দ্রব্যের সুষ্ঠু বাজারজাতকরণের সুবিধা সৃষ্টি;

৩.৩.৫ পোল্ট্রি মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনে উৎসাহ প্রদান; এবং

৩.৩.৬ পোল্ট্রির উন্নয়নের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি।

৪.০ জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতির প্রয়োগ ও পরিধি

পোল্ট্রি সম্পদ উন্নয়ন, উৎপাদন ও সংরক্ষণ, আমদানি-রপ্তানি বা পোল্ট্রি সম্পর্কীয় ব্যবসার সাথে জড়িত বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিসীমার মধ্যে অবস্থানকারী, সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও ব্যাক্তি জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতির আওতাভুক্ত হবে।

লেখকঃ হৃদ রহমান

এটাও দেখতে পারেন

পশুখাদ্য বিধিমালা, ২০১৩

মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ এর ধারা ২২ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার পশুখাদ্য বিধিমালা, ২০১৩ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *