নীড় / পোল্ট্রী / পোল্ট্রী ম্যানেজমেন্ট / মুরগির খাদ্যে সঠিক মাত্রার জিঙ্কের প্রভাব

মুরগির খাদ্যে সঠিক মাত্রার জিঙ্কের প্রভাব

সুস্থ, সাবলিলভাবে বেঁচে থাকা, স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধি এবং কাঙ্খিত উৎপাদন পেতে মুরগিকে সুষম খাদ্য সরবরাহ করা আবশ্যক। যে খাদ্যে সকল খাদ্য উপাদান প্রয়োজনীয় (ডিম বা মাংস যে উদ্দেশ্যের জন্য পালন করা হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমান) পরিমানে থাকে তা হলো সুষম খাদ্য। খাদ্যের ছয়টি পুষ্টি উপাদানের মধ্যে কিছু আছে বেশি পরিমানে লাগে, যেমন-ক্যালসিয়াম, ফসফরাস িএবয় কিছু আছে কম পরিমানে লাগেযাকে বলে Trace mineral, যেমন কপার, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি। কিন্তু আমরা যারা পোল্ট্রি নিয়ে কথা বলি, তারা প্রায় সবাই মুরগির জন্য খনিজ বলতে ক্যালসিয়ামকে বুঝি এবং মুরগির খাদ্য তৈরি বা খাওয়ানোর সময় trace mineral  এর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয় বা ততো গুরুত্ব দেয়া হয় না, বিষয়টি আসলেই যতটা গুরুত্ববহ সে অনুযায়ী। এরকম একটি খনিজ হলো জিংক। জিঙ্ক কোলাজেন সিন্থেসিস-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডায়াটারি (সরবরাহকৃত খাদ্য হতে প্রাপ্ত) জিঙ্ক মুরগির ইমিউনিটি বৃদ্ধি করে, দেহের শক্ত কাঠামো (supports skeletal development) গঠনে, দৃঢ় ত্বক এবং পালক গজাতে ভূমিকা রাখে। ব্রয়লার রেশনে জিঙ্ক কমপ্লেক্স ব্যবহারের ফলে খাদ্য রুপান্তর হার বাড়ে। জিঙ্ক মানুষসুস্থ, সাবলিলভাবে বেঁচে থাকা, স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধি এবং কাঙ্খিত উৎপাদন পেতে মুরগিকে সুষম খাদ্য সরবরাহ করা আবশ্যক। যে খাদ্যে সকল খাদ্য উপাদান প্রয়োজনীয় (ডিম বা মাংস যে উদ্দেশ্যের জন্য পালন করা হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় পরিমান) পরিমানে থাকে তা হলো সুষম খাদ্য। খাদ্যের ছয়টি পুষ্টি উপাদানের মধ্যে কিছু আছে বেশি পরিমানে লাগে, যেমন-ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং কিছু আছে কম পরিমানে লাগেযাকে বলে Trace mineral, যেমন কপার, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি। কিন্তু আমরা যারা পোল্ট্রি নিয়ে কথা বলি, তারা প্রায় সবাই মুরগির জন্য খনিজ বলতে ক্যালসিয়ামকে বুঝি এবং মুরগির খাদ্য তৈরি বা খাওয়ানোর সময় trace mineral  এর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয় বা ততো গুরুত্ব দেয়া হয় না, বিষয়টি আসলেই যতটা গুরুত্ববহ সে অনুযায়ী। এরকম একটি খনিজ হলো জিংক। জিঙ্ক কোলাজেন সিন্থেসিস-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডায়াটারি (সরবরাহকৃত খাদ্য হতে প্রাপ্ত) জিঙ্ক মুরগির ইমিউনিটি বৃদ্ধি করে, দেহের শক্ত কাঠামো (supports skeletal development) গঠনে, দৃঢ় ত্বক এবং পালক গজাতে ভূমিকা রাখে। ব্রয়লার রেশনে জিঙ্ক কমপ্লেক্স ব্যবহারের ফলে খাদ্য রুপান্তর হার বাড়ে। জিঙ্ক মানুষ থেকে শুরু করে ব্যাকটেরিয়া পর্যন্ত সব জীবনের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উপাদান। ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত জিঙ্কের বায়োলজিক্যাল ফাংশন সংপর্কে ধারণা ছিল না।এর আরো ২০ বছর পর শুকরেরর চামড়ায় সৃষ্ট একধরনের ক্ষত parakeratotic, পোল্ট্রিতে slow growth, poor feathering এবং abnormal skeletal development থেকে জানা যায় জিঙ্কের অভাব জনিত কারনের কথা। সাম্প্রতিক সময়ে পোল্ট্রি বিষয়ক বিভিন্ন লিটাচার থেকে ধারনা পাওয়া যায় যে পোল্ট্রিতে foot-pad lesions এবং চামড়া ক্ষতিগ্রস্তজনিত কারনে কারকাসের মান কমে যাওয়া ইত্যাদির কারণ, পোল্ট্রি রেশনে জিঙ্ক ঘাটতি। পোল্ট্রি উৎপাদনকারী এবং পুষ্টিবীদগণের উপলব্ধি হলো পোল্ট্রি রেশনে সম্পূরক জিঙ্ক ব্যাবহার গুরুত্বপূর্ণ।

 

মুরগির উৎপাদনশীলতায় জিঙ্কের প্রভাবঃ  তাপজনিত পীড়ন মুরগির performance, উৎপাদশীলতা, পুষ্টি উপাদানের ব্যবহার, রোগ প্রতিরোধ শক্তি এবং এন্টি-অক্সিডেণ্ট স্ট্যাটাস উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়, যা মুরগি রোগ সংবেদনশীলতা/সংক্রমণের সম্বভাবনা বাড়িয়ে দেয় এবয় খামার পরিচালনা বা মুরগি পালনে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। েএই প্রতিকুল অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে গৃহিত অনেক পদ্ধতি বা ব্যবস্থার মধ্যে একটি হলো সরবরাহকৃত খাদ্যের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে পুনর্বিন্যাস (Dietary manipulation) করা।জিঙ্ক কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং লিপিড মেটাবলিজমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে feed utilization এ ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তাপজনিত পূড়নের সময় খাদ্যে সম্পূরক হিসাবে জিঙ্ক ব্যবহার করলে মুরগির খাদ্য গ্রহণ বৃদ্ধি পায় এবং ডিম উৎপাদন, খাদ্য রুপান্তর হার বৃদ্ধি ও ডিমের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। ৩০০ এর বেশি এনজাইমের কার্যকারিতার জন্য জিঙ্ক দরকার হয় এবয় দেহের বিভিন্ন এনজাইমেটিক ও মেটাবলিক কাজে অংশগ্রহণ করে। জিঙ্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এন্টিঅক্সিডেন্ট ডিফেন্স সিস্টেমে অয়শগ্রহণ। জিঙ্কের অভাবে cell membrane এর oxidative damage বেড়ে যায়। তবে যে কৌশলের মাধ্যমে জিঙ্কের antioxidant action  সংঘটিত হয়। পোল্ট্রি রেশনে জিঙ্কের সুপারিশকৃত মাত্রা প্রতি কেজিতে ৪০-৭৫ মিলিগ্রাম। যেসব প্রণি জিঙ্কের ঘাটতি জনিত সমস্যায় ভোগে তাদের রক্তে জিঙ্কের মাত্রা কম হয় এবং এর  ফলে বিভিন্ন এনজাইমের মেটাবলিক ক্ষমতা হ্রাস পায়। জিঙ্কের অভাবে খাদ্য গ্রহণ হ্রাস পায় অর্থাৎ ক্ষুধামন্দা হয়, ফলে খাদ্য ব্যবহার করার দক্ষতাও কমে যায় এবং দৈহিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্থ হয়। মুরগির পালক গজানো এবয় পালকের structure জিঙ্কের অভাবজনিত কারণে প্রভাবিত হয়। জিঙ্কের অভাবে পালক গজানোর হার কম হয় এবং দেরিতে পালক গজায়। মুরহির খাতদ্যে জিঙ্কের অভাবে পাকা এবং পায়ের লম্বা অস্থি সমূহের বৃদ্ধি ভালো হয় না এর ফলে ঐ সমস্ত হাড় খাটো ও মোট হয়। জিঙ্কের ঘাটতি হলে চামড়া খসখসে হয়, বিশেষ করে পায়ের চামড়া বেশি আঁশযুক্ত হয়। মুরগির খাদ্যে জিঙ্কের অভাব খামারের মারাত্মক অর্থনৈতিক কারণ হয়ে দাড়ায়। এর ফলে মুরহির ডিম উৎপাদন কমে যায়, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ডিমের হ্যাচাবিলিটি কমে যায়। যদি ডিম পাড়া মুরহির খাদ্যে জিঙ্কের ঘাটতি থাকে তাহলে ঐ মুরগির ডিমেও কাঙ্খিত পরিমাণের চেয়ে কম জিঙ্ক থাকবে। এসব ডিম হ্যাচিং করলে ভ্রুণ skeletal abnormalities -এ ভুগবে এবয় সদ্য ফোটা বাচ্চা উঠে দাড়াতে পারবে না, স্বাভাবিকভাবে খাদ্য ও পানি গ্রহণ করতেও সমর্থ হবে না। জিঙ্ক কার্বোনিক এনহাইড্রেজ এনজাইমের একটি গাঠনিক  উপাদান, যা ডিমের খোমা তৈরির সময় কার্বনেট আয়ন সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি এই এনজাইম নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে বাইকার্বনেট নিঃসরণ কমে যাবে এবয় এর পলে ডিমের খোসার ওজন ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। খাদ্যে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ৮০ মিলিগ্রাম বা ১০০ মিলিগ্রাম জিঙ্ক-মিথিওনিন হিসেবে সরবরাহ করলে ডিমের খোসার ওজন বৃদ্ধি পায় এবং তাপজনিত পীড়নের সময় ডিমের খোসার অস্বাভাবিকতা হ্রাস পায়।

 

খাদ্য পরিপাচ্যতায় জিঙ্কের ভূমিকাঃ খাদ্য পরিপাচ্যতায় বিশেষ করে বদহজম বা পাতলা পায়খানা/ডায়রিয়ার সময় জিঙ্ক বিশেষ ভূমিকা রাখে। আমরা জানি পরিবেশের উচ্চ তাপমাত্রা বা তাপজনিত পীড়নের সময় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান বিশেষ করে প্রোটিন, ফ্যাট, স্টার্চ ইত্যাদির পরিপাচ্যতা কমে যায়। ৩২সে. তাপমাত্রায় ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, এমাইলেজ প্রভৃতি এনজাইমের  activities কমে যায়্। এই্ সময়ে খাদ্যে সাপ্লিমেন্ট হিসেবে জিঙ্ক সরবরাহ করলে এনজাইমের কার্যকারিতা ভালো হয়। এছাড়া জিঙ্ক প্যানক্রিয়াটিক টিস্যুকে oxidative damage থেকে রক্ষা করে, জিঙ্ক প্যানক্রিয়াসের কার্যক্রস স্বাভাবিক রেখে বিভিন্ন digestive enzyme  নিঃসরণে ভূমিকা রাখে। ফলে খাদ্যের পরিপাচ্যতা বেড়ে যায়। মুরগির খাদ্য রুপান্তর হারও বেড়ে যায়।

 

মুরগির রোগ প্রতিরোধ শক্তি উৎপাদনে জিঙ্কের ভূমিকাঃ মুরগির রোগ প্রতিরোধ শক্তি বা immunity’র জন্য জিঙ্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং immune response এ জড়িত কোষের ইন্টিগ্রিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পোল্ট্রি রেশনের জিঙ্কের ঘাটতি হলে  cellular immunity হ্রাস পায়। জিঙ্কের ঘাটতিজনিত কারণে থাইমাস, স্প্লিন এবং interlukin production এর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। জিঙ্কের অভাবে T-Lymphocyte এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে। ব্রয়লার রেশনে ৪০ মিলিগ্রাম/কেজি হিসেবে জিঙ্ক ব্যবহারের ফলে এন্টিবডি উৎপাদন বেড়ে যায়[NRC(1994)]। জিঙ্ক গরমের সময় মুরহির খাদ্যে পীড়নরোধক (antistress) হিসেবে কাজ করে। এসব আলোচনা থেকে বোঝা যায় মুরগির খাদ্যে প্রয়োজনীয় পরিমান জিঙ্কের উপস্থিতি জরুরী।  জিঙ্ক এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে বড় ভূমিকা পালন করে , খাদ্য পরিপাক, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ জিঙ্ক মুরগির পুষ্টি বিধানের সাথে সাথে শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলী সম্পাদনে সহায়তা করে। খাদ্যে জিঙ্কের ঘাটতি হলে এর ঘাটতিজনিত লক্ষণ দৃশ্যমান হয়। জিঙ্ক একটি গৌণ element কিন্তু মুখ্য ভূমিকা পালনে সহায়তাকারী। সুতরাং মুরগির খাদ্য প্রস্তুতির সময় অন্যান্য খনিজ উপাদানের সাথে সাথে খাদ্যে সঠিক পরিমান জিঙ্কের উপস্থিতির বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

সূত্রঃ ১। ইন্টারনেট

২। ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি ম্যাগাজিন

লেখকঃ মোঃ মহির উদ্দীন

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ঈশ্বরদী, পাবনা। মোবাইলঃ ০১৭১৬১৭২৯৫৭ ইমেইলঃ uloish2011@gmail.com

এটাও দেখতে পারেন

Problems & solutions of layer birds when climate change from Cold to hot and during hot climate

In this period each bird eats more feed 120-125 gm per day for maintain body …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *