নীড় / বিবিধ / ভেটেরিনারি পেশা / উপমহাদেশে ভেটেরিনারি পেশার ইতিহাস ও প্রাণিসম্পদ সেক্টরে একীভূত ডিগ্রির প্রয়োজনীয়তা

উপমহাদেশে ভেটেরিনারি পেশার ইতিহাস ও প্রাণিসম্পদ সেক্টরে একীভূত ডিগ্রির প্রয়োজনীয়তা

প্রাচীন ভারতে হেকিম ও কবিরাজগণ যেমন মানুষের চিকিৎসা করতেন, তেমনি প্রাণিরও চিকিৎসা করতেন এবং তা ছিল মূলত আয়ুর্বেদিক শাস্ত্র মোতাবেক। ১৭৭৪ সালে ‘ঘোড়া প্রজনন খামার’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ উপমহাদেশে আধুনিক ভেটেরিনারি পেশার যাত্রা শুরু হয়। ঐ সময় Williams Frazer নামক Cavalry বিভাগের এক ব্রিটিশ সেনা অফিসার ঘোড়া ও গরুর জাত উন্নয়নে উৎসাহী হয়ে উঠেন। তার ফলে ইংল্যান্ড থেকে ৬টি গাভী ও ২টি ষাড় এনে ভারতের পুনে’তে একটি গরু প্রজনন খামার প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে London Court of Directorate এর অনুমোদনক্রমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের Cavalry বিভাগের ঘোড়াগুলির প্রজনন ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের লক্ষে ১৭৯৬ ভারতের পুষ্কার (Pushkar) নামক স্থানে একটি প্রজনন খামার স্থাপণ করে। বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রাথমিকভাবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রজনন ব্যবস্থাপনা সাফল্য লাভ করতে পারে নি। ১৮০০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্রিটেনে তাদের সদর দপ্তরের কাছে একজন পেশাদার ভেটেরিনারিয়ান চেয়ে আবেদন করেন যিনি ঘোড়ার প্রজনন ব্যবস্থায় দক্ষ এবং অভিজ্ঞ। ঐ সময় William Moorcroft নামে একজন ভেটেরিনারিয়ান Westminster Volunteer Cavalry কাজ করতেন যিনি ১৭৯১সালে ইউরোপের প্রথম ভেটেরিনারি কলেজ, লিঁও, ফ্রান্স থেকে Veterinary ডিগ্রি নেন এবং লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটে ঘোড়ার জন্য প্রথম হাসপাতাল চালু করেন এবং ১৭৯২ সালে ব্রিটেনে প্রথম ভেটেরিনারি কলেজ স্থাপনে সহায়তা করেন। তাঁর দক্ষতা ও পেশাদিরিত্ব দেখে Edward Parry নামক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন পরিচালক তাঁকে পুষ্কারস্থ ঘোড়া প্রজনন খামারের তত্ত্বাবধায়ক ও ভেটেরিনারি সার্জন পদে নিয়োগ দেন। তিনিই ভারতবর্ষের প্রথম পেশাদার ভেটেরিনারিয়ান। তাঁর প্রচেষ্টায় প্রাণির রোগ নির্ণয়, প্রতিকার, জাত উন্নয়ন এবং খাদ্য ও ব্যবস্থাপনায় অনেকটা উন্নয়ন ঘটে। ভেটেরিনারি পেশার সম্পর্কে আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৮২০ নাগাদ ব্রিটেন থেকে অনেক পেশাদার ভেটেরিনারিয়ানগণ ভারতবর্ষে আসতে থাকেন।

কর্নেল J.H.B Hallen এর প্রচেষ্টায় ১৮৬২ সালে ভারতবর্ষের পুনে’তে সর্বপ্রথম সামরিক ভেটেরিনারি হাসপাতাল স্থাপন করা হয় যেখানে ১ বছর মেয়াদী ভেটেরিনারি কোর্স প্রদান করা হতো। কর্নেল J.H.B Hallen কে ঐ হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ভেটেরিনারি সার্জন পদে নিয়োগ দেয়া হয়। দক্ষ ভেটেরিনারিয়ান তৈরির উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে ১৮৭৭ সালে ভারতের বাবুগড়ে প্রথম ভেটেরিনারি কলেজ স্থাপন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৮৮২ সালে লাহোরে, ১৮৮৬ সালে বোম্বে এবং ১৮৯৩ সালে কোলকাতা ও মাদ্রাজে ভেটেরিনারি কলেজ স্থাপন করা হয় যেখানে ৩ বছর মেয়াদী ভেটেরিনারি কোর্স (Diploma in Veterinary Science) প্রদান করা হতো। প্রাণীসম্পদের স্বাস্থ্য ও প্রজনন সেবা নির্বিঘ্ন করার জন্যে কর্নেল J.H.B Hallen এর নেতৃত্বাধীন The Cattle Plegue Commission এর সুপারিশের প্রেক্ষিতে ভারতের ইজ্জতনগরে ১৮৮৯ সালে Imperial Bacteriological Laboratory প্রতিষ্ঠা করা হয় যা বর্তমানে Indian Veterinary Research Institute (IVRI) নামে সুপরিচিত। কর্নেল Hallen সামরিক বাহিনীর প্রাণী চিকিৎসার পাশাপাশি বেসামরিক জনসাধারণের পশু-পাখি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ১৮৯৩ সালে Civil Veterinary Department প্রতিষ্ঠা করেন। এ বিভাগটি মূলত পশু-পাখির সংক্রামক রোগ দমন ও নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে সমাধান দেয়ার কাজ করতো। তৎকালীন ভারতবর্ষের ভাইসরয় Lord Linlithgow এর পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৩৮ সালে দিল্লীতে সর্বপ্রথম All India Cattle Show n নামে গবাদি পশু প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এ প্রদর্শনীতে দেয়া অঙ্গীকার হিসেবে Lord Linlithgow সিভিল ভেটেরিনারি বিভাগকে পূর্ণাঙ্গ অধিদপ্তরে উন্নীত করে মহকুমা ও থানা পর্যায়ে জনবল নিয়োগ দেয়া হয়। প্রাণিসম্পদের বিকাশ ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষে ভারতের প্রথম এনিম্যাল হাজবেন্ড্রি কমিশনার Sir Arthus Oliver ১৯৩৬ সালে মাদ্রাজ ভেটেরিনারি কলেজে সর্বপ্রথম ডিগ্রি (DVSc) কোর্স চালু করেন (Dunlop and Williams, 1996)।

১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগ হওয়ার পর বর্তমান বাংলাদেশ(তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান) এর কুমিল্লায় ঐ বছরের ৭ই ডিসেম্বর একটি ভেটেরিনারি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয় যেখানে ৩ বছয় মেয়াদী Diploma in Veterinary Medicine and Surgery (DVMS) নামে ডিগ্রি দেয়া হতো। পরবর্তীতে এই ডিগ্রির নাম পরিবর্তন করে এর নাম LVS (Licentiate Veterinary Science) রাখা হয় (Ali, 1997)।

১৯৫০ সালে ভেটেরিনারি কলেজকে কুমিল্লা থেকে ঢাকার তেজগাঁওয়ে (বর্তমান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) স্থানান্তর করে ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয় এবং কলেজের নামকরণ করা হয় East Pakistan College of Veterinary Science and Animal Husbandry যেখান থেকে ৫ বছর মেয়াদী B.Sc.(AH) ডিগ্রি দেয়া হতো। মূলত Veterinary Science এবং Animal Husbandry কে অবিবেচ্ছদ্য বিবেচনায় এ ধরণের নামকরণ করা হয় (Ali, 1997)।

East Pakistan College of Veterinary Science and Animal Husbandry পরবর্তীতে তেজগাঁও, ঢাকা থেকে ১৯৫৫ সালের কাছাকাছি সময়ে ময়মনসিংহে স্থানান্তর করা হয়। পূর্বতন ডিগ্রি B.Sc.(AH) এর নাম পরিবর্তন করে পুনরায় B.Sc.(Vet. Sc. & AH) করা হয় যাতে ৮০% প্রাণিস্বাস্থ্য এবং ২০% প্রাণি উৎপাদন কোর্স কালিকুলা রাখা হয় যা ১৯৬১ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকে।

১৯৬১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের National Educational Commission and the Food and Agricultural Commission এর সুপারিশের ভিত্তিতে ময়মনসিংহস্থ East Pakistan College of Veterinary Science and Animal Husbandry কে কেন্দ্র করে East Pakistan Agricultural University (বর্তমানে Bangladesh Agricultural University) প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৬৩ সালে B.Sc.(Vet. Sc. & AH) ডিগ্রিকে DVM (Doctor of Veterinary Medicine) এবং B.Sc.(AH) নামক দুটি পৃথক ডিগ্রি দেয়া শুরু করে। মূলত Indo-American এবং Pak-American Team এর সুপারিশের প্রেক্ষিতে ডিগ্রি পৃথক করা হয় এবং উপমহাদেশেভেটেরিনারি শিক্ষায় American Pattern অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার সাথে যোগ হয় কতিপয় শিক্ষকদের উচ্চাকাঙ্খা যাঁরা ডীন কিংবা ডিপার্টমেন্টাল হেড হওয়ার জন্যে একীভূত ডিগ্রিকে দ্বিধাভিবক্ত করতে সহায়তা করেছেন।

এ প্রক্রিয়ায় উপমহাদেশের মতো দরিদ্র দেশের সামাজিক বাস্তবতাকে আমলে নেয়া হয় নি। কারণ আমেরিকা ও ভারতবর্ষের সামাজিক বাস্তবতায় রয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আমেরিকা একটি উন্নত দেশ হওয়ায় সে দেশের প্রায় স্বচ্ছল-ধনবান নাগরিকগণ Pet /Fancy /Companion Animals, Birds and Reptiles পোষে থাকেন। ফলে আমেরিকাতে DVM (Doctor of Veterinary Medicine) ডিগ্রিধারীর বেশিরভাগ ডাক্তার Pet /Fancy /Companion Animals, Birds and Reptiles নিয়ে প্র্যাকটিস করে থাকে এবং অধিক অর্থ আয় করে থাকেন। এ প্রেক্ষিতে Farm Animal এর প্রতি ভেটেরিনারিয়ানগণ খুব বেশী সময় দিতে চান না। ফলে আমেরিকার দু-একটি প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য ও উৎপাদন কোর্সকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দুটি ডিগ্রি দিয়ে থাকেন। আমাদের ভেটেরিনারি শিক্ষায় American Pattern অন্তর্ভুক্তি যে একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত ছিলো না তার প্রমান মিলে যখন ভারতের তৎকালীন বিদ্যমান ২২ টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৩ টি (পাটনগর, হারিয়ানা এবং পাঞ্জাব) এবং পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সহ মোট মাত্র ৫ টি (২৪ টির মধ্যে) বিশ্ববিদ্যালয় American Pattern ভেটেরিনারি এডুকেশন গ্রহণ করে। পরবর্তীতে American Pattern গ্রহণ করা ভারতের ৩ টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় Indian National Commission on Agriculture and the Review Committee on Agriculture Universities (Anon, 1982 a.b)এর সুপারিশের উপর ভিত্তি করে ১৯৮২ সালে DVM (Doctor of Veterinary Medicine) এবং B.Sc.(AH) ডিগ্রি দুটোকে পুনরায় একীভূত করে B.Sc.(Vet. Sc. & AH) ডিগ্রি প্রদান শুরু করে। এমনকি পাকিস্তানও ২০০২ সাল থেকে শুধুমাত্র DVM (Doctor of Veterinary Medicine) ডিগ্রি দেয়া হচ্ছে। আর যারা B.Sc.(AH) ডিগ্রি নিয়েছে তারা Deficiency Course গ্রহণ করে DVM (Doctor of Veterinary Medicine) ডিগ্রি নিচ্ছে। নতুন করে B.Sc.(AH) ডিগ্রি আর দেয়া হচ্ছে না (Ramzee, 2002)। দুর্ভাগ্যজনকভাবে একমাত্র বাংলদেশেই বিরল রেফারেন্স হিসেবে B.Sc.(AH) ডিগ্রি বিরাজ করছে।

সরকারের উদ্যোগ:
Bangladesh Agricultural University তে চলমান দুটি ডিগ্রিকে একীভুত করার জন্য সরকার বিভিন্ন সময়ে প্রচেষ্টা করেছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের Animal Husbandry Faculty তার সায়ত্ত্বশাসনের অপপ্রয়োগ করে এবং ছাত্রদের উস্কিয়ে দিয়ে তা রুখে দিয়েছেন। দুই ফ্যাকাল্টির শিক্ষার্থীবৃন্দের চাওয়া-পাওয়া ছিলো দুটি ফ্যাকাল্টি এক হোক এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হোক। সরকারের উপর্যুপরী প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে থাকলে সরকার বিকল্প চিন্তা করতে থাকে। এক পর্যায়ে সরকার ০৪ টি সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ স্থাপন করেন যেখানে ভারতীয় কারিকুলার অনুকরণে DVM (Doctor of Veterinary Medicine) এবং B.Sc.(AH) একীভূত কারিকুলাম সমন্বয়ে এবং ০১ বছরের ইন্টার্নশীপ সহ ০৫ বছরের DVM (Doctor of Veterinary Medicine) ডিগ্রি চালু করে। কলেজগুলি ছিল- সিলেট ভেটেরিনারি কলেজ-১৯৯৪ (বর্তমানে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি কলেজ-১৯৯৬ (বর্তমানে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়), দিনাজপুর ভেটেরিনারি কলেজ-২০০৩ (বর্তমানে হাজী মুহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)এবং বরিশাল ভেটেরিনারি কলেজ-২০০৩ (বর্তমানে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)। পরবর্তীতে সরকার প্রাণিসম্পদের সর্বোচ্চ ডিগ্রি দেয়ার লক্ষে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ খুলেছেন, সেখানেই একীভূত কারিকুলামের ডিগ্রি’র বাস্তবায়ন করেছেন। যেমন: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঝিনাইদহ সরকারী ভেটেরিনারি কলেজ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে একীভূত কারিকুলামের DVM বা B.Sc. Vet. Sc. And AH নামে ডিগ্রি দেয়া হচ্ছে। সরকারের ইচ্ছাকে ধারণ করেই ২০১২ সাল নাগাদ দেশের ৯ টি বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ ব্যাতিত আর কোথাও B.Sc. AH ডিগ্রির অস্তিত্ত্ব ছিল না। কিন্তু ২০১২ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিম্যাল হাজবেন্ড্রি অনুষদের একজন শিক্ষক পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি তাঁর ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্বশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে সরকারের ইচ্ছাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এবং স্বজনপ্রীতির নিকৃষ্ট উদাহরণ তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একীভূত ডিগ্রিকে আবার দ্বিখন্ডিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এবং স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সরকার সাধারণত সেখানে হস্তক্ষেপ করতে চান না। সরকার যে দ্বিখণ্ডিত ডিগ্রি দিতে চান না তার সর্বশেষ উদাহরণ শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে এনিম্যাল সায়েন্সেস এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন নামক অনুষদ চালু করা হয়েছে যেখানে কাঙ্ক্ষিত একীভূত ডিগ্রি চালু রয়েছে।

বাংলাদেশে দ্বিখন্ডিত ডিগ্রি কেন ক্ষতিকর:
শিক্ষাক্ষেত্রে: দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে এখন থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেটেরিনারির সাথে এনিম্যাল হাজব্যান্ড্রি নামক ফ্যাকাল্টি চালুর পর থেকেই এ দুই ফ্যাকাল্টির ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী মনোভাব বিরাজ করছে। ফলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায়শই ছাত্র আন্দোলন মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। পরিণতিতে দুই ফ্যাকাল্টির শিক্ষকগণের কোন ক্ষতি না হলেও ছাত্রদের শিক্ষাজীবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি-শৃঙ্ক্ষলা ব্যহত হয়। শিক্ষাজীবনের পরেও এই দুই ফ্যাকাল্টির ছাত্ররা পেশাজীবনে সাবলীল হতে পারে না। দুর্ভাগ্য এই যে ফ্যাকাল্টি দুটোর ছাত্ররা এ দ্বিখন্ডিত ডিগ্রির জন্যে দায়ী না হয়েও তার পাপের ফল তারা ভোগ করছে। ভার্সিটি পড়াকালীন যখন তারা মুক্ত আলোচনা করেন তখন একীভূত ডিগ্রির প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নেন, কিন্তু ফ্যাকাল্টি পলিটিক্সের কারণে ছাত্ররা কখনো এ বিষয়ে এক লাইনে দাঁড়াতে পারে না। বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ফ্যাকাল্টির ছাত্ররা এ ধরণের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

চাকুরিক্ষেত্রে:
বর্তমান সরকারের আমলে যেখানে কৃষি ও মৎস্য ক্যাডার তাদের কাঙ্ক্ষিত অর্গানোগ্রাম পেয়েছে এবং গত দশকে তাদের অর্জন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদান উল্লেখযোগ্য পরিমানে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর অর্গানোগ্রাম ঠিক করতেই হিমশিম খাচ্ছে। এর অন্যতম ও একমাত্র কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিখন্ডিত ডিগ্রি (পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিখন্ডিত ডিগ্রিধারীরা এখনো গ্রাজুয়েশন শেষ করেননি)। কর্মক্ষেত্রে তাঁরা একে অপরকে শত্রু মনে করে। একবার ভাবুনতো একই ক্যাডারের অফিসারগণ যদি দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে যুদ্ধাংদেহী মনোভাব নিয়ে থাকে, তাহলে এ সেক্টরের উন্নতি কিভাবে সম্ভব? ফলে কৃষিবান্ধব এ সরকারের আন্তরিকতা ভেস্তে যেতে বসেছে। শুধুমাত্র একটি ভার্সিটির একটি অনুষদের গুটিকয়েক ছাত্রের জন্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের গতি শ্লথ হবে কিংবা অর্গানোগ্রাম আটকে থাকবে এটা যুক্তিসংগতভাবে কোনক্রমেই মেনে নেয়া যায় না।

মাঠে আরো একটি সমস্যা প্রকট আর তা হলো B.Sc.(AH) ডিগিধারীগণ প্রায়ই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। কারণ খামারীগণ প্রাণিসম্পদ অফিস এসে প্রথমেই ডাক্তারের খোঁজ করেন। খামারী মনে করেন যিনি চিকিৎসা করেন তিনিই প্রাণীর খাবার ও প্রজনন ভালো বুঝবেন। গাভী গর্ভবতী হলেই ডাক্তারই সঠিক পরামর্শ দিবেন, বাছুরের সেবাযত্ন ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে যুতসই পরামর্শ দিবেন। এটাই স্বাভাবিক কারণ একজন পরিপূর্ণ ডাক্তার আবশ্যিকভাবে প্রাণীর স্বাস্থ্য, খাদ্য, প্রজনন ইত্যাদি বিষয়ে সম্যক জ্ঞান ধারণ করেন। তাই মাঠে একজন ভেটেরিনারিয়ান অনুপস্থিত থাকলে প্রাণিসম্পদ অফিস কার্যত অচল থাকে।

উত্তরণের উপায় কি?
১। প্রয়োগিক দিক ও দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রাণিসম্পদ বিভাগে দুই ডিগ্রির আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা তা ভেবে দেখা দরকার বৈকি। একটু উদাহরন দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। স্ব স্ব দেশের বাস্তবতায় ও সক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃষি থেকে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের উদ্ভব হয়েছে। যেমন অনেক দেশেই হর্টিকালচার, এগ্রোনমি ইত্যাদিতে বিএসসি ডিগ্রি দেয়া হয়। অথচ বাংলাদেশে কৃষি খাতের বিশাল অবদান এবং বৃহৎ কলেবর থাকা সত্ত্বেও বিশেষায়ণের নামে কোন উপশাখার উদ্ভব হয়নি। উপশাখার যে প্রয়োজন নেই এমনটিও নয়, কিন্তু বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় এখনো এর প্রয়োজনীয়তা বোধ করেননি কৃষিবোদ্ধাগণ। কৃষিতে অনার্স করার পর যে কেউ বিশেষ জ্ঞান অর্জন (এমএস বা পিএইচডি বা পোস্ট ডক. ইত্যাদি) করে নিতে পারেন। ফলে যেখানে হর্টিকালচার, প্যাথলজি কিংবা ব্রিডিংয়ের জন্য বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন জনবলের দরকার হয় (গবেষনায়, অধ্যাপনায়), সেখানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এমএস বা উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের প্রাধিকার দেয়ার কথা উল্লেখ থাকে। এরকমভাবে B.Sc. Vet. Sc. And AH ডিগ্রিধারীদের যে কেউ মেডিসিন, সার্জারি, প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, প্যারাসাইটোলজি, জেনেটিক্স এন্ড ব্রিডিং, নিউট্রিশন, ডেইরি বা পোল্ট্রি বিষয়ে মাস্টার্স কিংবা উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে বিশেষজ্ঞ হতে পারেন। পৃথিবীতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ই সম্ভবত একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে DVM বা Veterinary Science ডিগ্রি নিয়ে কেউ AnimalNutrition, Animal Genetic & Breeding, Dairy Science, Poultry Science ইত্যাদি বিষয়ে MS ডিগ্রি নিতে পারেন না। অথচ বিদেশে DVM বা Veterinary Science তো দূরে থাক, Normal Life Science (Zoology, Chemistry) ডিগ্রিধারী যে কেউ AnimalNutrition, Animal Genetic & Breeding, Dairy Science, Poultry Science MS ডিগ্রি নিতে পারে এবং এটা তাদের অধিকারও বটে।

সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সমাধান হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালুকৃত DVM এবং B.Sc. AH ডিগ্রিকে একীভূত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে B.Sc. Vet. Sc.And AH ডিগ্রি প্রদানে সম্মত করানো। কারণ-

 দেশের ৭টি প্রতিষ্ঠানে যেখানে একীভূত ডিগ্রি দেয়া হচ্ছে এবং যেখান থেকে প্রতি বছর আনুমানিক ৪০০-৫০০ কম্বাইন্ড গ্রাজুয়েট বের হচ্ছে সেখানে ঐ দুই প্রতিষ্ঠান হতে মাত্র ১২০-১৩০ জন AH গ্রাজুয়েট বের হচ্ছে। তাহলে প্রতি বছরে ভর্তিকৃত মাত্র ১২০/১৩০ জন AH গ্রাজুয়েটের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেনো দেশের কথা বিবেচনা না করে সায়ত্বশাসনের অপপ্রয়োগ করে গো ধরে থাকবে তা বোধগম্য নয়। সবারই মনে রাখা উচিত স্বায়ত্বশাসন মানে বিকল্প সরকার নয়।

 শুধু চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিশ্বের কোথাও DVM ডিগ্রি দেয়া হয় না। সেখানে উৎপাদন সংক্রান্ত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকে। বলা বাহুল্য DVM ডিগ্রির কোর্স কারিকুলাম OIE (World Organization for Animal Health) এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ভেটেরিনারি কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত হতে হয়। নিজের খেয়াল খুশিমত কাটা-ছেঁড়া করে DVM ডিগ্রি দেয়া যায় না। যেহেতু DVM বা B.Sc. Vet. Sc. & AH ডিগ্রি একটি কম্বাইন্ড কারিকুলা নিয়ে বৈশ্বিক ও দেশীয় কর্তৃপক্ষের (OIE & BVC) নীতিমালা অনুসরণ সাপেক্ষে গঠন করতে হয়, সেহেতু DVM বা B.Sc. Vet. Sc. & AH ডিগ্রি থেকে উৎপাদন বিষয়ক কোর্স পুরোপুরি ছেঁটে অসম্ভব একটি বিষয়। তাই একই বিষয়ে দুই ফ্যাকাল্টিতে পাঠদান অর্থ অপচয়েরই নামান্তর। তাই DVM এবং B.Sc. AH ডিগ্রিকে একীভূত করে B.Sc. Vet. Sc.And AH ডিগ্রি প্রদানই বাস্তবসম্মত।

২। প্রথম প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করা গেলে দ্বিতীয়ত যেটি করা যেতে পারে তা হলো কম্বাইন্ড কারিকুলাসম্পন্ন DVM ডিগ্রিধারীদের প্রাণিসম্পদ খাতের সকল প্রতিষ্ঠানের এন্ট্রি পোস্টে আবেদন করার সুযোগ দেয়া (উল্লেখ্য বর্তমানে কম্বাইন্ড কারিকুলাসম্পন্ন DVM ডিগ্রি ধারীদের শুধুমাত্র প্রাণী স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পোস্টগুলিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়)। কারণ-

 ভারত, পাকিস্তান সহ যে সকল দেশে প্রাণিসম্পদের কাঠামো আমাদের মতো সেখানে সামরিক (Remount Veterinary Farm Corps) ও বেসামরিক চাকুরিতে মূল যোগ্যতা থাকে কম্বাইন্ড ডিগ্রি অথবা ডিভিএম ডিগ্রি। অতিরিক্ত যোগ্যাতা হিসেবে এমএস বা পিএইচডি’র কথা উল্লেখ থাকে। আর তার সাথে আবশ্যিকভাবে যুক্ত হয় ইন্ডিয়ান ভেটেরিনারি কাউন্সিলের রেজিস্রে।িশন। প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ হবে এটাই নিয়োগ প্রক্রিয়ার আধুনিক ধারণা। আশা করি এতে কারো দ্বিমত হবার কথা নয়। মজার বিষয় হচ্ছে কম্বাইন্ড কারিকুলাসম্পন্ন DVM ডিগ্রিধারী ছাত্ররা দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎপাদন (Production) সম্পর্কিত বিষয়ের (এনিম্যাল নিউট্রিশন, এনিম্যাল জেনেটিক্স ও ব্রিডিং, ডেয়রি সায়েন্স, পোল্ট্রি সায়েন্স ইত্যাদি) শিক্ষক হতে পারছেন অথচ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিএলআরআই) কিংবা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উৎপাদন/সম্প্রসারণ বিষয়ক পোস্টে আবেদনই করতে পারবেন না এটা কি কোন সভ্য ও সুশিক্ষিত সমাজে কাম্য?

৩। তৃতীয় আমরা মাথা ব্যাথার জন্যে মাথা কেটে ফেলতে পারি! প্রাণিসম্পদের এই কাইজ্যা দেখে অনেক শুভাকাঙ্খী মজা করে বলেন ভাই আপনারা কাইজ্যা না করিয়া “মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ে দুইটি ডাইরেক্টরেট চালু করেন”। “ডিপার্টমেন্ট অফ লাইভষ্টক প্রডাকশন সার্ভিস” আর অপরটি “ডিপর্টমেন্ট অফ ভেটেরিনারি সার্ভিস”। উভয় গ্রুপই খুশি হবে, পদ-পদবী বাড়বে আর সেই সাথে মানুষও জানবে কোন অফিসে “সিরিঞ্জ-নিডেল-ষ্টেথো”থাকে আর কোন অফিসে “গরুচড়ানো, ঘোড়ার ঘাস কাটা” ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান দেয়া হয়!

 কৃষিতে অগ্রগামী ভারতসহ অনেক দেশে মৎস্য, প্রাণি সহ আরো অন্যান্য বিভাগ এখনো কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন এবং প্রাণিসম্পদের দেখভালো করার জন্যে রয়েছে শুধুমাত্র একটি ডিপার্টমেন্ট। যেমন ভারতে রয়েছে Department of Animal Husbandry, Dairying and Fisheries বা Department of Animal Husbandry ইত্যাদি নামে যেখানে অফিসার র্যা ঙ্কের সকল পোস্টে রয়েছে ভেটেরিনারিয়ান এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের অর্গানোগ্রামও সুগঠিত। এন্টি পোস্টের নাম কোথাও ভেটেরিনারি অফিসার, কোথাও সহকারী পরিচালক ইত্যাদি নামে। সেখানেও যোগ্যতা হিসেবে লেখা থাকে B.Sc. Vet. Sc. and AH অথবা B.V.sc অথবা DVM ডিগ্রি এবং ইন্ডিয়ান ভেটেরিনারিনারি কাউন্সিল হতে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত। মাত্র গুটি কয়েক শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা ডিপার্টমেন্ট খোলা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় কেবল অযৌক্তিক নয় বাতুলতা্র নামান্তর।

চিত্র ১: ডিপার্টমেন্ট অফ এনিম্যাল হাজবেন্ড্রি, রাজস্থান, ভারত এর পদায়ন নীতিমালা ও এন্ট্রি পোস্টের যোগ্যতা
চিত্র ২: ডিপার্টমেন্ট অফ এনিম্যাল হাজবেন্ড্রি, রাজস্থান, ভারত এর অর্গানোগ্রাম-সদর দপ্তর
চিত্র ৩: অর্গানোগ্রাম-উদয়পুর বিভাগ (নমুনা-রাজস্থানের ৭টি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ১টি বিভাগ)

উপমহাদেশে যখন দ্বিখন্ডিত ডিগ্রি চালু হয়, তখন ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত FAO/WHO এর যৌথ আন্তর্জাতিক মিটিংয়ের রিপোর্টে বলা হয়- There is no denying fact that only the Veterinary graduates by virtue of their training and qualifications are best suited for animal health and husbandry works in all its aspects (Anon, 1965).অর্থাৎ প্রাণিসম্পদবিভাগের সম্প্রসারণ কর্মী হিসেবে ভেটেরিনারিয়ানগণই সবচেয়ে যোগ্য অফিসার। প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট সকল এন্ট্রি পোস্টের নিয়োগের সার্কুলারে ভেটেরিনারিয়ানদের আবেদন করার ব্যবস্থা করা যাতে করে পরীক্ষার মাধ্যমেই যোগ্য প্রার্থীগণ বের হয়ে আসতে পারেন এবং দেশের সকল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্বাইন্ড কারিকুলাসম্পন্ন একীভূত DVM ev B.Sc. Vet. Sc.and AH ডিগ্রি চালু করা সময়ের দাবী।

সূত্র:
1. Ali SM (1997). A brief resume of the development of veterinary education in East Pakistan (now Bangladesh), Bangladesh Veterinary Journal 31: 1-7.
2. Anon. (1965). Report of second International FAO/WHO Meeting on Veterinary Education, held in Copenhegen 12-21 August, Denmark.
3. Anon. (1982a). Development of Animal Husbandry West Bengal plea for merger with the Department of Veterinary Service (Editorial). Indian Veterinary Journal 59: i-ii.
4. Anon. (1982b). Full-fledged departments of animal science in colleges of Agriculture – an anomaly (Editorial). Indian Veterinary Journal 59: iii-iv.
5. Dunlop RH and Williams DJ (1996). Veterinary Medicine, An illustrated history. 1st pub., Mosby, St. Louis Baltimore, USA.
6. Ramzee AA (2002). Country Report – Pakistan. Commonwealth Veterinary Association Regional News Asia. CVA news July 18:2
7. Samad MA and Ahmed MU (2003). History and scope of Veterinary Medicine. Bangladesh Journal of Veterinary Medicine, 1 (1): 1-8.
8. http://animalhusbandry.rajasthan.gov.in/ActRu…/Rules2008.pdf
9. http://animalhusbandry.rajasthan.gov.in/…/Annual_report_201… (pp. 6,8)

বিস্তারিত আরো জানতে ক্লিক করতে পারেন নিচের লিঙ্কসমূহে-
https://rpsc.rajasthan.gov.in/…/B3215703-F541-4EFA-991B-EC3…
http://upsc.gov.in/sites/default/files/ANIMAL_H%26VSC-I.pdf
http://upsc.gov.in/sites/default/files/ANIMAL_H%26VSC-II.pdf
https://rpsc.rajasthan.gov.in/…/232A2CDE-38AA-4EED-9645-DAC…
https://rpsc.rajasthan.gov.in/…/3AD0A8E4-70D6-4894-98ED-AF1…
https://rpsc.rajasthan.gov.in/…/6D777AF0-AF07-41EF-951D-BDF…
https://rpsc.rajasthan.gov.in/…/F12F960C-3FAF-48AD-8BDD-499…

লেখকঃ ডা. মইন

তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ হতে ডিভিএম এবং ফার্মাকোলজিতে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সায়েন্টিফিক অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট-এ কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-এর প্রধান কার্যালয়ে সিনিয়র অফিসার পদে বাজেট এন্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-এ কাজ করেছেন। তাছাড়া তিনি সহকারী জেলা কমান্ড্যান্ট (৩০ তম বি.সি.এস-আনসার), মানিকগঞ্জ-এ কাজ করেছেন। বর্তমানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জামালপুর সদর হিসেবে কাজ করেছেন।

এটাও দেখতে পারেন

বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশনের সভাপতি পদে ডা. এস. এম. নজরুল ইসলাম স্যারকে কেন নির্বাচিত করা যায় ?

১. ডা. এস.এম. নজরুল ইসলাম প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে ২য় সারির সিনিয়র একজন কর্মকর্তা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *