নীড় / ডেইরি / গাভী, গর্ভবতী ও বকনার পরিচর্যা

গাভী, গর্ভবতী ও বকনার পরিচর্যা

বকনা গরুর ক্ষেত্রে রথমে বডি কন্ডিসন স্কোর ঠিক করতে হবে।প্রথমত, কৃমিনাশক যেমন Endex, তারপর ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট আর মিনারেল দিয়ে প্রপার weight gain করতে হবে। গর্ভাবস্থা ব্যতীত অনয সময়ে মিনিমাম ক্ষুরা রোগ ও এন্থ্রাক্সের টিকা দিতে হবে।বীজ দেওয়ার আগে মিনিমাম ১৮০-২০০ কেজি হলে ভাল।তাছাড়া, Vitamin ADE inj. 10ml+ মেগাভিট DB জাতীয় মালটিভিটামিন সাপ্লিমেন্ট ৩ চা চামচ, লিভার টনিক যেমন হেপামিন ফোর্ট আধা কাপ করে প্রতি গরুতে চলবে।রেগুলার ৪-৫ দিন গ্যাপে এক্টোনিল ভেট(fipronil) ১ প্যাকেট ৪-৫ লিটার পানিতে দিয়ে ডীপিং করাতে হবে, খেয়াল রাখতে হবে যেন মুখে না ঢুকে।Ivermectin inj. অনেক সম্যি বন্ধ্যাতের জন্য দায়ী। পর্যাপ্ত পানি আর খাদ্য দিতে হবে। তবে গাভীর সাস্থ্য আগে ঠিক করে নিতে হবে। ২১ দিন পর পর বকনা গরম হবে। প্রথম হিট মিস করাতে হবে। গরম হওয়ার ১২-১৮ ঘন্টার মধ্যে AI/­প্রাকৃতিক প্রজনন করাতে হবে। সন্ধ্যার(৬টা) সময় গরম হলে পরের দিন সকালে(৬টা) একবার আবার এর ৬ ঘণ্টা পর দ্বিতীয়বার বীজ স্থাপন করলে সুফল পাওয়া যায় বেশি। মল ভাঙ্গা, ভালভা ফুলে যাওয়া, ডাকাডাকি করা, ষাড় গরু জাম্প করলে, মিউকাস যুক্ত যোণিদার, খাওয়া দাওয়ার অরুচি estrous বা গরম হওয়ার লক্ষণ। এখন যদি দেখা যায় যে বীজ দেওয়ার ২১ দিন পর আবার গরম হচ্ছে বা বার বার রিপিট ব্রিডিং হচ্ছে এবং যদি AI করার ২১ দিন পর ও হিটে আসে তাহলে insemination এর ২ ঘন্টা আগে বকনার ক্ষেত্রে Ovuprost 2.5 cc ঘাড়ের মাংসে আর গাভীর ক্ষেত্রে ২.৫ c c ovurelin ঘাড়ের মাংস এ দিতে হবে। Ovurelin হল gonadorelin আর Ovuprost হল প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন।যদি বকনা বা গাভি কন্সিভ করে তাহলে ২১ দিন পর তা আর গরম হবেনা। এরপর সম্ভাব্য প্রসবের সময় বের করে নিতে হবে(২৭০+-১০ দিন)। বাচ্চা হওয়ার আগে মল ভাঙ্গা, মিউকাস সমৃদ্ধ হাল্কা রক্ত যাওয়া, গর্ভথলি বিদীর্ন হয়ে ফ্লুইড বের হতে দেখ যাবে। এজনয রাতে খেয়াল রাখতে হবে খামারিকে যেন বাচ্চা জন্মালে সাপোর্ট দিতে পারে। প্লাসেন্তা বা গর্ভফুল পরে গেলে নিয়ে পুতে ফেলতে হবে যাতে কিছুতেই গাভী এতা খেতে না পারে কারণ খেলে গাভীর দুধ উতপাদন কমে যাবে। আরও নানা রোগ হতে পারে। প্লাসেন্টা ৬ ঘন্টার মধ্যেই পরে যাবে তারপরো UToklin 450 ml ৫-৬ ঘন্টা পর দুইবার খাওয়ালে প্লাসেন্টা পরে যাবে, আর যদি তাও না হয়, অক্সিন (oxytocin) 5 cc মাংসে বা চামড়ার নিচে দিতে হবে, আরো জটিল কিছু হলে বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিতে হবে। বাচ্চাকে মার কাছে রাখতে হবে, মা তার শরিরের মিউকাস পরিষ্কার করে দিবে।বাচ্চার জন্য শালদুধ খুব গুরুতবপুর্ণ তাই জন্মের পরের ১ মাস শাল দুধ খাওয়াতে হবে বাছুরের শারীরিক গঠনের জন্য খুব দরকার ও রগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুগুনে বাড়ায়।এসময় মার শরীরে ক্যালসিয়ামের খুব ঘাটতি হয়, তাই বাজারে বিদ্যমান ক্যালশিয়াম প্রিপারেশন যেমন ক্যাল পি, স্যাঙ্কাল খাওয়ালে দুধ জরে সম্ভাবনা থাকেনা। ২০০ এম এল করে ১০-১২ দিন খাওয়ানো উচিত। বাচ্চা এর বয়স ১৫-২০ দিন হলে Albendazole (Almex vet)

1 bolus/­50kg ও প্রসবের পর গাভীকে Renadex (triclabendazo­le+levamisole) 1 bolus /50 kg খাওয়াতে হবে। গাভী এর পরবর্তী ৪০-৪৫ দিনে তার প্রজনন তন্ত্রকে সাভাবিক হওয়ার সময় দিতে হবে অর্থাৎ ২ টা হিট মিস করাতে হবে। প্রসবের ৬৩-৬৫ দিন পর গরম হলে তখন থেকে বীজ দেওয়া যাবে। এভাবে পুরা সাইকেল রিপিট হবে।

লেখকঃ Abdullah Al Masud

BCS Livestock Cadre, 34th BCS

এটাও দেখতে পারেন

মাংসের চাহিদা মিটাতে পারে বেলজিয়ান ব্লু

বিশ্বের অন্যতম গরু উৎপাদনকারী দেশ হল বেলজিয়াম। দেশটির অন্যতম বা বিখ্যাত গরুর জাতের নাম হচ্ছে …

একটি মন্তব্য

  1. সুন্দর আর্টিকেলটির জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *