নীড় / বিবিধ / ভেটেরিনারি পেশা / একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানঃ বিতারিত কেন্দ্র বনাম পুনর্বাসন কেন্দ্র

একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানঃ বিতারিত কেন্দ্র বনাম পুনর্বাসন কেন্দ্র

বিএলআরআই অর্গানোগ্রামের দিকে তাকালে মোটা দাগে যা দেখা যায় তা হচ্ছে খুব সুক্ষ ও সুচতুরভাবে পশুপালনখুশীতন্ত্র মেথডে সাজানো হয়েছে। স্পষ্টভাবেই পরিলক্ষিত হয় কিভাবে একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান তার ডিভিশনগুলিকে একটি অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ভাগ করেছে।

আমরা জানি কোন জিনিসকে একাধিকভাবে ভাগ করা গেলেও কোন একটি নির্দিষ্ট ক্লাসিফিকেশন কোন একটি নির্দিষ্ট প্যারামিটারের উপড় ভিত্তি করে করা হয়। যেমন আমরা যদি আমাদের দেশে বিদ্যমান ভার্সিটিগুলিকে ভাগ করতে চাই, তবে বিভিন্নভাবে করতে পারি। যেমনঃ
১। বৈশিষ্ট্যের উপড় ভিত্তি করে-টেকনিক্যাল এবং জেনারেল
২। অবস্থানের উপড় ভিত্তি করে- ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ইত্যাদি।
কিন্তু বৈশিষ্ট্যের ভিত্তি করে ভাগ করতে গিয়ে আমি কখনোই বলতে পারব না ভার্সিটির ক্লাসিফিকেশন হচ্ছে – টেকনিক্যাল, জেনারেল, ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ইত্যাদি। কারণ একটি নির্দিষ্ট ক্লাসিফিকেশন কোন একটি নির্দিষ্ট প্যারামিটারের উপর ভিত্তি করেই করতে হয়।

বিএলআরআইইয়ের কোর ডিভিশনগুলিকে প্রডাকশনভিত্তিক ভাগ করা হয়েছে যেখানে প্রত্যেকটি ডিভিশনের মধ্যে হেলথভিত্তিক পোস্ট না রেখে এনিম্যাল হেলথ ডিভিশন বলে আলাদা একটি ডিভিশন রাখা হয়েছে, যা হাস্যকর (যা ক্লাসিফিকেশনের বিধিবহির্ভূত)।
কিংবা মোটাদাগে হেলথ ও প্রডাকশন দুটি ডিভিশনে ভাগ করে তার ভিতরে হেলথ ও প্রডাকশনের ডিপার্টমেন্টগুলিকে রাখা হয়নি। কারণ সেভাবে ভাগ করা হলেও হেলথ ও প্রডাকশনের পোস্টের সংখ্যা সমান হয়ে যেতো।
আবার বায়োটেকনোলজি এবং সিস্টেম রিসার্চ নামে দুটি কমন ডিভিশন রাখা হলেও ডিভিশন দুটিতে প্রাসংগিক-অপ্রাসংগিক বিভিন্ন নামে এ এইচ গ্রাজুয়েটরাই দখল করে আছে।

ছাগল ও ভেড়া উৎপাদন গবেষণা বিভাগঃ
ডিভিশনে CSO এবং PSO পদ রাখা হয়েছে এ.এইচ. গ্রাজুয়েটদের জন্য। ডিভিশনটিকে ৫টি ডিপার্টমেন্টে ভাগ করা হলেও হেলথের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১টি!!!
প্রডাকশনের ৪টি ডিপার্টমেন্টের মধ্যে জেনেটিক্স এবং নিউট্রিশন ডিপার্টমেন্ট দুটিকে যৌক্তিক মনে হলেও Goat House & Farm Management এবং Sheep House & Farm Management Goat House & Farm Management ডিপার্টমেন্ট দুটি বাংলাদেশের মতো দেশে (প্রাধিকারের মাপকাঠিতে) কতটুকু প্রয়োজনীয় তা চিন্তার খোরাক যোগায়। একাডেমিক তর্কের খাতিরে ধরে নিলেও প্রশ্ন থেকে যায় উপর্যুক্ত ডিপার্টমেন্ট দুটি কি Virology, Bacteriology, Pathology, Parasitology, Epidemiology কিংবা Vaccinology এর চেয়ে বেশী প্রাধিকার রাখে???
অন্যদিকে Virology, Bacteriology, Pathology, Parasitology, Epidemiology কিংবা Vaccinology এগুলোকে একত্রে Goat and Sheep Health নাম দিয়ে একটি ডিপার্টমেন্টের আওতায় রাখা হয়েছে!!! সত্যিই সেলুকাস, বিচিত্র এ বিএলআরআই!!!

পোল্ট্রি উৎপাদন গবেষণা বিভাগঃ ডিভিশনে সকল পদই রাখা হয়েছে এ.এইচ. গ্রাজুয়েটদের জন্য। হেলথের জন্য কোন পোস্টই রাখা হয়নি!!! কারণ ঐ যে এনিম্যাল হেলথ ডিভিশন বলতে একটি ডিভিশন রেখে দেয়া হয়েছে যেখানে যোগদান করবেন একজন ডিভিএম/কম্বাইন্ড গ্রাজুয়েট আর তিনি একাধারে গরু, ছাগল, ভেড়া, পোল্ট্রি সবকিছু নিয়েই গবেষণা করবেন!!!
যেনো তিনি সবজান্তা শমসের!!!

যিনি বিজ্ঞানী, তিনিই ডাক্তার!!!
আরো লক্ষণীয় বিষয় বর্তমান কাঠামোতে ফার্মের প্রাণিগুলিকে (পোল্ট্রিসহ) চিকিৎসা দেয়ার জন্য কোন ভেটেরিনারিয়ান নেই। কারণ এক এনিম্যাল হেলথ ডিভিশনের বিজ্ঞানীদের দিয়েই জুতাও সেলাই করানো হয় আবার চণ্ডীও পাঠ করানো হয়!!! তাই রিসার্চ ফার্মের ন্যায় সাপোর্ট সার্ভিস ডিভিশনের মধ্যে ফার্ম ভেটেরিনারি ডিপার্টমেন্টকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবী তুলতে হবে।
ভাবতে অবাক লাগে ভেটদের নেতৃত্ব দিয়ে শুরু হওয়া এ প্রতিষ্ঠানটি কিভাবে সুকৌশলে ভেট বিতারিত কেন্দ্র হিসেবে এবং এনিম্যাল হাজবেন্ড্রি পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। যাহোক ইতিহাস আলোচনা করে কোন লাভ নেই। বর্তমান ‍অর্গানোগ্রামের (ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত, মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া কপি থেকে নয়) আলোকে আমরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারি।

বিএলআরআইয়ে চলমান অর্গানোগ্রামে কিভাবে এনিম্যাল হেলথকে একটি ইউনিট হিসেবে ধরে (ডিভিশন নয়) তার মধ্যে কতগুলি ডিভিশনকে সংযোজনের মাধ্যমে ভেটদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা যায় তার একটি আপাত ভিশনারি ডায়াগ্রাম নীচে ছবি আকারে দেয়া হলো ।

এটি একটি খসড়া কাঠামো। সকলের ‍সুচিন্তিত মতামত এটাকে একটা চূড়ান্ত রূপ দিতে পারবে আশা করা যায়। বাকী কাজটুকু তরুন ভেটরা করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। আন্দোলন নেতার জন্ম দেয়, নেতা আন্দোলনের জন্ম দেয় না!!! কারো জন্য বসে থাকার সময় এটা নয়।
বি.দ্র. আমি বর্তমানে চলমান অর্গানোগ্রাম (নীচের ছবিতে সংযুক্ত) নিয়ে আলোচনা করেছি। মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া অর্গানোগ্রাম তো নিশ্চয়ই আরো ভয়াবহ হবে!!!

লেখকঃ ডা. মইন

তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ হতে ডিভিএম এবং ফার্মাকোলজিতে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সায়েন্টিফিক অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট-এ কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-এর প্রধান কার্যালয়ে সিনিয়র অফিসার পদে বাজেট এন্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-এ কাজ করেছেন। তাছাড়া তিনি সহকারী জেলা কমান্ড্যান্ট (৩০ তম বি.সি.এস-আনসার), মানিকগঞ্জ-এ কাজ করেছেন। বর্তমানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জামালপুর সদর হিসেবে কাজ করেছেন।

এটাও দেখতে পারেন

বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশনের সভাপতি পদে ডা. এস. এম. নজরুল ইসলাম স্যারকে কেন নির্বাচিত করা যায় ?

১. ডা. এস.এম. নজরুল ইসলাম প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে ২য় সারির সিনিয়র একজন কর্মকর্তা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *