নীড় / বিবিধ / ভেটেরিনারি পেশা / ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা অর্গানোগ্রামের বাস্তবায়ন চাইঃ হাবিব মোল্লা [সাক্ষাৎকার]

ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা অর্গানোগ্রামের বাস্তবায়ন চাইঃ হাবিব মোল্লা [সাক্ষাৎকার]

লাইভস্টক ক্যাডারের অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়নের পথে বাধা হিসেবে যে মামলাটি ঝুলে ছিল, তা সম্প্রতি খারিজ হয়ে গেছে। ফলে এই ক্যাডার সংশ্লিষ্টরা নতুন করে আবার আশার আলো দেখছেন। তবে কেউ কেউ নতুন করে শঙ্কাও প্রকাশ করছেন, আবার নতুন কোন ষড়যন্ত্র হবে না তো? অর্গানোগ্রামের পূর্বাপর নিয়ে আজ কথা হয় দি ভেট এক্সিকিউটিভ-এর সাধারণ সম্পাদক ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মোল্লা ভাইয়ের সাথে। সাক্ষাৎকারটি আপনাদের জ্ঞাতার্থে তুলে ধরা হলোঃ

ভেটসবিডিঃ শুরুতেই অর্গানোগ্রাম নিয়ে যে মামলাটি হয়েছিলো তার ইতিহাসটা জানতে চাই
হাবিব মোল্লাঃ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস হলো, ডিএলএস থেকে সর্বশেষ ২২তম সংস্করণের যে প্রস্তাবনাটি পাঠায়, যা ডিএলএস এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাস হয়ে Habibযখন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে যায়, তখন ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা এই মামলাটি দায়ের করে। তারা এই মর্মে মামলাটি করে যে, প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রামে তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্য হয়েছে। তাদের দাবী ছিল ২০% এর মতো পদে তাদেরকে প্রমোশন দিয়ে নবম গ্রেডে, যেটা আমাদের এন্ট্রি লেভেল পোস্ট সেটাতে পদোন্নতি পাওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে এবং সেই পোস্টগুলো অধিদপ্তরের মেইন মেইন কিছু জায়গায় তারা এই সুযোগ দাবী করে, এর মধ্যে যেমন, বদলী শাখা, বাজেট শাখা, প্ল্যানিং শাখা, তারপর আমাদের মেডিসিন যে স্টোর আছে সেই শাখাগুলোতে তারা প্রথম শ্রেণীর একটা করে পোস্ট চায়, ঐ পর্যন্ত তারা যেতে চা্য়।এই পোস্টগুলো তাদের ধরা হয় নাই। সেইজন্য তারা এই মামলাটি করে। কিন্তু সরকারেরও ইন্টারেস্ট-এর বিষয় এই জাগায়, এই জন্য এ্যাটর্নী জেনারেল আপিল করলে প্রধান বিচারপতি একটা বেঞ্চ গঠন করে দেয়। ঐ আপিল বিভাগই গত পরশু শুনানির পর বাদীকে ৭২ ঘণ্টার সময় বেধে দেয়, ওরা আবার মামলাটি delay করতে চাচ্ছিল, তো ওদেরকে সময় বেধে দিয়ে বলেন, এই সময়ের মধ্যে তাদেরকে মামলার পক্ষে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করতে হবে, আর না পারলে তারা মামলাটি আর চালাবে না এই মর্মে তাদেরকে বলতে হবে। গত কালকে ঐ বেঞ্চ ৭২ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই মামলাটি খারিজ করে দেয়। এর আগে মামলা করার কারনেই অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়নের কাজে আদালত স্থগিতাদেশ দেয়, যার কারনেই গত দেড় বছর যাবত অর্গানোগ্রামের কাজ থেমে ছিল। যেহেতু মামলাটি খারিজ হয়ে গেছে, তাই অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়নের পথে আইনগত আর কোন বাধা রইলো না। এই হলো মূল বিষয়, সংক্ষেপে বললাম।

ভেটসবিডিঃ প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রামের সার-সংক্ষেপ যদি বলতেন
হাবিব মোল্লাঃ বর্তমানে উপজেলা লেভেলে ভেটেরিনারিয়ানদের এন্ট্রি লেভেলে একটি পোস্ট থাকলেও এনিমেল হাজবেন্ড্রী গ্র্যাজুয়েটদের তেমন কোন পোস্ট নাই, থাকলেও বিক্ষিপ্তভাবে, ঐ ডেইরি ফার্ম, মহিষ ফার্ম বা চিড়িয়াখানাতে, এই সমস্ত জাগাতে ওদের কিছু পোস্ট আছে, কিন্তু উপজেলাতে ওদের কোন এন্ট্রি লেভেলে পোস্ট নাই।প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রামে ভেটেরিনারিয়ানদের ভিএস হিসেবে ৩টি পোস্ট প্রস্তাব করা হয়েছে।আর আরেকটা পোস্ট প্রস্তাব করা হয়েছে, যেটা হলো Livestock Extension Officer। ঐ পোস্টটাই এনিমেল হাজবেন্ড্রীর ওরা বলতে চায় এটা তাদের পোস্ট।আর আমরা যে এতোদিন যাবৎ দৌড়-ঝাপ পারছিলাম, আমাদের দাবীটা হলো এই পোস্টে আমরাও Eligible, কারণ আমরাও তো Agricultural Extension পড়ি, আমাদের কোর্স কারিকুলাম তো কম্বাইন্ড। বিশেষত বাকৃবি বাদে, বাকৃবিও কিন্তু এখন কম্বাইন্ড, কিন্তু ওরা (এনিমেল হাজবেন্ড্রীরা) যেহেতু কোর্স কারিকুলাম দিচ্ছে না, সেইজন্য কোর্স কারিকুলাম অন্য ফ্যাকাল্টি থেকে নিচ্ছে, তাই না? কিন্তু অন্য ইউনিভার্সিটিগুলোতে কিন্তু এনিমেল হাজবেন্ড্রীর যতটুকু অংশ থাকা দরকার, যেমন ২২-২৫% world-এ সকল জায়গায়, আমাদের এখানেও কিন্তু on an average-এ ২৩% পড়ানো হয়। কাজেই যেহেতু আমরা কম্বাইন্ড কোর্স কারিকুলাম পড়ি সেহেতু আমরা এই পোস্টাতে eligible, এইটা ছিল আমাদের বক্তব্য এবং আমরা এখনও পর্যন্ত ঐ স্ট্যান্ডটা নিয়েই আছি। পোস্ট, অসুবিধা নাই, ৩টা আর ১টা মোট ৪টা হোক, কিন্তু ঐ পোস্টটাতে ওদের পাশাপাশি আমাদের অবলিগ (/) দিয়া দিতে হবে। এটার যুক্তি হলো, পারসেন্ট-এর কথা যেটা বললাম, আরেকটা যুক্তি হলো এখন কিন্তু চিটাগাং (সিভাসু), সিলেট (কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), হাজী দানেশ (হাবিপ্রবি), এই সমস্ত জায়গাতে বেসিক কোর্সের ডিভিএম’রাই এনিমেল হাজবেন্ড্রীর সকল পোস্টের টিচার । উদাহরণ দিলে, হাজী দানেশে এনিমেল সায়েন্স, ডেইরি সায়েন্স, পোল্ট্রি সায়েন্স, তারপর নিউট্রিশান, ওরা ৮ জন এনিমেল হাজবেন্ড্রী সাবজেক্টের টিচার, যাদের বেসিক ডিগ্রী হলো ডিভিএম। তারপর সিলেটে আছে ৫ জন, চিটাগাং-এ আছে ৬ জনের মতো, যাদের বেসিক ডিগ্রী ডিভিএম। তাহলে ঐ সমস্ত শিক্ষার সর্বোচ্চ জায়গায় যদি বেসিক ডিগ্রী ডিভিএম নিয়ে মাস্টার্স করার পরে ওরা ঐ সমস্ত সাবজেক্টে eligible হয়, তাহলে এখানে কেন হবে না? আর আমাদের বক্ত্যব্যটা ঐ জায়গাতেই, আমরা দুইটা ফ্যাকাল্টি চাই না তো এই কারণেই, যে, বেসিক ডিগ্রীটা একটা হওয়া উচিৎ, তারপরে স্পেশালাইজড হবে বিভিন্ন সাবজেক্টে।

ভেটসবিডিঃ এনিমেল হাজবেন্ড্রীর জন্য এই Livestock Extension Officer ছাড়া আর কি কোন পোস্ট প্রস্তাব করা হয়েছে?
হাবিব মোল্লাঃ না, এই একটাই নতুন করে প্রস্তাব করা হয়েছে, আর আগে যেগুলো ছিলো, সেগুলোতো থাকছেই।
ভেটসবিডিঃ যে ৩জন ভেটেরিনারি সার্জনের কথা বলা হয়েছে তারা কি একটা উপজেলায় একই অফিসে বসবে?
হাবিব মোল্লাঃ না, একই অফিসে বসবে ২জন, আর একটা প্রস্তাব করা হয়েছে, যেটা, যে সমস্ত উপজেলায় ৮’র অধিক ইউনিয়ন আছে, ঐ উপজেলাকে আরেকটা সাব সেক্টরে ভাগ করে ঐ আট ইউনিয়ন মিলে আরেকজন ভিএস থাকবে।
ভেটসবিডিঃ আচ্ছা আপনি কি মনে করেন, একটা মামলার জন্য যেরকম আটকে ছিল, এনিমেল হাজবেন্ড্রীরা ওরকম আরেকটা মামলা করতে পারে?
হাবিব মোল্লাঃ না, ওরা তা করবে না, এই জন্য ওরা মামলায় যাবেনা, কারণ যে অর্গানোগ্রাম হচ্ছে, তাতে কিন্তু ওরা বঞ্চিত হচ্ছে না। তাছাড়া এখন ডিএলএস-এর যিনি ডিজি, তিনি তো এনিমেল হাজবেন্ড্রীর, কাজেই তাদের বঞ্চিত হওয়ার কোন সুযোগই নাই। আর ওরা যে পোস্টটা চাচ্ছে, আমরাতো এতোদিন বলে আসছিলাম যে ঐটা না হইলেও চলে। কারণ এক্সটেনশনের কাজতো ভিএস’রাও করছে। তারপর ওখানে যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আছে, উনিও তো এক্সটেনশনের কাজটা করতে পারে। ঐ পোস্টটা দিচ্ছেই আমাদের মধ্যে discipline নষ্ট করার জন্য। এটা ছিল আমাদের এখন পর্যন্ত যুক্তি এবং এই যুক্তিতে আমরা এখন পর্যন্ত আছি, কিন্তু অর্গানোগ্রামটা যেহেতু করতে হবে, তাই আমাদের হয়তো কিছুটা ছাড় দিতে হবে। তবে যদি ছাড় দিতে হয়, তবে ঐ পোস্টটার যোগ্যতার জায়গাটাতে অবলিগ দিয়ে আমাদেরকেও নিতে হবে। এইটা হলো আমাদের যুক্তি।
ভেটসবিডিঃ আর কি কি ধাপ বাকি আছে অর্গানোগ্রাম পাস হতে?
হাবিব মোল্লাঃ এখন আসলে আর কোন ধাপ না, এখন যেহেতু মামলাটা খারিজ হয়ে গেছে, ১৮ সদস্য বিশিষ্ট একটা কমিটি হয়েছিল, ঐ কমিটির মাধ্যমে আমরা যে অর্গানোগ্রাম তৈরি করে দিয়েছিলাম, ঐ অর্গানোগ্রামটা কিন্তু স্ংস্থাপনে যায় নাই, আমরা সন্দেহ করছি। এজন্য ঐ অর্গানোগ্রামের ২টা কপি আমরা নিয়ে আসছি, এখন আমরা পর্যালোচনা করে দেখবো, ২২তম সংস্করণে, যা যা এতোক্ষণ বললাম, তাই আছে কি না। এখন বিসিএস লাইভস্টক এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি হয়েছে। ঐ কমিটির ইলেকশান মেনিফেস্টই ছিল, যদি তারা পাশ করে তবে বাহাউদ্দিন নাসিম ভাইয়ের সহযোগীতায় সকল বাধা দূর করে এই অর্গানোগ্রাম পাশ করা হবে। গত পরশু দিন এই কমিটি নাসিম ভাইয়ের সাথে দেখা করেছে। নাসিম ভাইও বলেছেন, অর্গানোগ্রাম পাশ করার পথে যেখানে যে বাধা আছে, আমাকে বলবেন, আমি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ যন্ত্রকে ব্যবহার করে হলেও, সে সমস্ত বাধা দূর করে, এই অর্গানোগ্রাম পাশ করাবো।
কাজেই আমার যা মনে হচ্ছে, নাসিম ভাই যেহেতু বিষয়টা নিয়ে সিরিয়াস, আর আমরা লেগে আছি, এখন যেখানেই যে বাধা আসুক না কেন, এই বাধাগুলো টিকবে না। এই সরকার আন্তরিক, আর বাই দিস টাইম এগ্রিকালচার হয়ে গেছে, ফিসারিজ হয়ে গেছে, তারা প্রমোশনও পেয়ে গেছে।
অর্গানোগ্রাম পাশ না হওয়ার দরুন সবচেয়ে বড় সমস্যায় আছে, যারা চাকরিতে নতুন জয়েন করেছে । যেমন যারা ২৪ তম বিসিএস-এ জয়েন করেছে, তাদের কিন্তু বয়স ১০ বছর হয়ে গেছে। অথচ ৫ বছর হলেই কিন্তু অন্য ক্যাডারের অফিসারেরা প্রমোশন পেয়ে যায়। ফলে একই সাথে জয়েন করার পরও আমাদের ছেলে-মেয়েদের ওদেরকে ‘স্যার’ ডাকতে হচ্ছে। এই যে বৈষম্যগুলো, এগুলো দূর করার জন্যই আমাদের অর্গানোগ্রাম পাস হওয়াটা জরুরী। আর বেকারের সমস্যা তো আছেই। এখন ৮টা ইউনিভার্সিটি থেকে প্রতি বছর ৫০০ ডিভিএম গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে, ২টা ইউনিভার্সিটি পাইপ লাইনে আছে, সিরাজগঞ্জেরটার জায়গা কেনা হয়ে গেছে।
আর নতুন অর্গানোগ্রামে ডিজি পোস্টটিকে ‘এ’ গ্রেডে উন্নিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেটা হয়ে গেলে আমাদের ডিজি তখন সচিব মর্যাদার হয়ে যাবে। এটার ব্যাপারে সরকার যেহেতু সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং অন্য অধিদপ্তরও পাচ্ছে, তাই আমাদেরটাও অটোমেটিক্যালি হয়ে যাবে।
ভেটসবিডিঃ ধন্যবাদ, আপনাকে, মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য।
হাবিব মোল্লাঃ হ্যা, সকলের কাছে দোয়া চাই। আমরা ছাত্র ফেডারেশনকে সাথে নিয়ে, সিনিয়রদের সাথে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাপ সৃষ্টি করেছি, আমরা বলেছি, মামলা কি আছে না আছে, আমরা জানতে চাই না, আমরা চাই, যেভাবেই হোক, অর্গানোগ্রাম পাশ করাতে হবে। অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়নের আমরা আবার একটা ডেডলাইনও দিয়েছি, ছাত্র ফেডারেশনের পক্ষ থেকে, ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা অর্গানোগ্রামের বাস্তবায়ন চাই এবং আমি ব্যাক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, যেভাবে আগাচ্ছে আরকি, আমরা যদি এটার ফলোআপ রাখতে পারি, আগামী ডিসেম্বরে আমরা একটা রেজাল্ট পাবো আশা করি।

লেখকঃ ডাঃ তায়ফুর রহমান

ডাঃ তায়ফুর রহমান; ডিভিএম, এম এস ইন ফার্মাকোলজী (বাকৃবি); ফিল্ড রিসার্চ অফিসার, জুনোটিক ডিজিজ রিসার্চ গ্রুপ; আইসিডিডিআর,বি (icddr,b); এবং ব্লগ এডমিনিষ্ট্রেটর, ভেটসবিডি

এটাও দেখতে পারেন

বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশনের সভাপতি পদে ডা. এস. এম. নজরুল ইসলাম স্যারকে কেন নির্বাচিত করা যায় ?

১. ডা. এস.এম. নজরুল ইসলাম প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে ২য় সারির সিনিয়র একজন কর্মকর্তা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *