নীড় / পোল্ট্রী / পোল্ট্রী রোগ পরিচিতি / হাসের ভাইরাসজনিত রোগঃ কারন ও প্রতিকার

হাসের ভাইরাসজনিত রোগঃ কারন ও প্রতিকার

গৃহপালিত পাখির মধ্যে হাঁস অন্যতম অর্থকরী সম্পদ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি হাঁস প্রতিপালিত হচ্ছে। একটা কথা প্রচলিত আছে যে, হাসেঁ রোগ কম হয়। এটা সত্য নয়। হাঁসে বহুপ্রকার রোগ হয় তবে মুরগির তুলনায় কম হয়। সংক্রামক রোগের মধ্যে প্রধানত ভাইরাসজনিত রোগই বেশি উলেস্নখযোগ্য। ভাইরাসজনিত রোগ যেমন ডাক ডাক পে−গ ও ডাক ভাইরাস হেপাটাইটিস রোগের কারণে এক একটা অঞ্চলের প্রায় সমসত্ম হাঁস উজাড় হয়ে যেতে পারে। নিচে এ রোগ দুটি সমন্ধে বিসত্মারিত আলোকপাত করা হল।

ডাক পেস্নগ রোগ: এ রোগের অপর নাম ডাক ভাইরাস এন্টারাইটিস। ডাক পে−গ রোগ হারপেস (Herpes) গ্রুপের এক প্রকার ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হাঁসের মারাত্নক প্রকৃতির সংক্রামক রোগ।
১৯২৩ সালে সর্বপ্রথম বডেট (Baudet) এ রোগ নেদারল্যান্ডে সনাত্ত করেন। পরবর্তীকালে ফ্রান্স, জার্মানী, আমেরিকা, ভারত, বাংলাদেশ এবং পৃথিবীর আরো বহু দেশে এ রোগ সনাত্ত করা হয়েছে। ১৯৬৩ এবং ১৯৬৫ সালে ভারতবর্ষে এ রোগের প্রার্দুভাব ঘটে এবং বহুসংখ্যক হাঁস মারা যায়।

এপিডিমিওলজি: পৃথিবীর যে সমসত্ম দেশে হাঁস অর্থকরী সম্পদ হিসাবে খামারে পালিত হয়, সম্ভবত সে সব অঞ্চলে এ রোগ রয়েছে। খামারে বহু সংখ্যক হাঁস একেএ প্রতিপালন ব্যবস্থার প্রেক্ষ্মাপটেই এ যাবৎ এ রোগ নিরূপিত হয়েছে। ১৯৫৯ সালের পূর্বে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যে সমসত্ম মড়ক দেখা গিয়েছিল , সে সব ক্ষ্মেেএ মৃত্যু হার প্রায় ১০০% ছিল। কিন্তু বর্তমানে মৃত্যুহার আগের তুলনায় কিছু হ্রাস পেয়েছে। পৃথিবীর কোন কোন দেশে ঋতুর সাথে এ রোগ প্রাদুর্ভাবের কিছু সর্ম্পক জানা গেছে। যেমন নেদারল্যান্ডে বসনত্মকালে এবং আমেরিকার লংআইল্যান্ডে গৃহপালিত হাঁসে সব ঋতুতে এবং বন্য জলজ হাঁস জাতীয় পাখিতে শরৎকালে এ রোগের প্রার্দুভাব বেশী পরিলক্ষ্মিত হয়। বাংলাদেশে এ রোগ রয়েছে এবং ঋতুর সাথে এর কোন সর্ম্পক আছে কিনা সে ব্যাপারে এখন কোন রির্পোট প্রকাশিত হয় নি।
রোগ সংক্রমণ ও বিসত্মার পদ্বতি: ডাক পে−গ রোগ প্রত্যক্ষ্ম ও পরোক্ষ্ম ভাবে সংক্রমিত হয়। প্রত্যক্ষ্ম সংসর্গ মানে অসুস্থ বা বাহক হাঁসের নিকটে অবস্থান। পরোক্ষ্ম সংসর্গ মানে কলুষিত বা দূষিত পরিবেশ যেখানে ভাইরাস অন্য বস্তুতে লেগে থাকে। এ প্রকার পরিবেশে সংবেদনশীল পাখি এলে রোগজীবাণু তাদের দেহে দূষিত পরিবেশ থেকে সংক্রমিত হয়। হাঁস পানিতে বাস করে। সুতরাং খালবিল, নদীনালা ইত্যাদির পানি এ রোগ বিসত্মারে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পানিতে ভেসে জীবাণু এক স্থান হতে অন্য স্থানে যেতে পারে। সংবেদনশীল পাখির সংখ্যা এবং ঘনত্ব যত বেশী হবে রোগ তত দ্রুত বিসত্মার লাভ করবে, তার স্থায়িত্ব বেশী হবে এবং মৃত্যুর হার ও বৃদ্বি পাবে। ডিমের মাধ্যমে এ রোগ সংক্রমিত হবার প্রমাণ এখন ও পাওয়া যায় নি। হাট-বাজারে রোগাক্রান্ত হাঁস ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকা বা গ্রামে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। কীট-পতঙ্গের মাধ্যমেও এ রোগের বিস্তার ঘটে। সব বয়সের হাঁসই প্রায় সমানভাবে আক্রানত্ম হয়। উভয় লিঙ্গের পাখিই সমভাবে আক্রানত্ম হয়।

ডাক পেস্নগে আক্রানত্ম হাঁস
ডাক পেস্নগে আক্রানত্ম হাঁস

 

রোগ লক্ষণ : এ রোগের সুপ্তিকাল (রোগজীবাণু দেহে প্রবেশের পর রোগ প্রকাশ পাবার সময়কাল) প্রায় ৩-৭ দিন। ঝাঁকে আকষ্মিকভাবে রোগের আবির্ভাব এবং অধিক সংখ্যক হাঁসের মৃত্যু লক্ষ্য করা যায়। এই মৃত্যুর হার অপরিবর্তিত থাকে। রোগাক্রান্ত হাঁস আলোর প্রতি অধিক সংবেদনশীল হয়। ক্ষুধামান্দ্য থাকে এবং ঘনঘন পানি পান করে। পালক কুঁচকে যায় এবং পাখা ঝুলে পড়ে। মাথা নিচের দিকে ঝুলে থাকে। বহু হাঁসের মাথা, ঘাড় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কাঁপুনি দেখা যায়। নাক থেকে শে−ষ্মা ঝরে। হাঁস হাটতে পারে না। একই জায়গায় শুয়ে থাকতে চায়। হাঁটতে গেলে পা ঠিকমত ফেলতে পারে না। ডায়রিয়া দেখা দেয়। পাতলা পায়খানা লেজের আশেপাশে লেগে থাকে। ডিমপাড়া হাঁসের ডিম উৎপাদন হ্রাস পায়। মৃত পুরুষ হাঁসের জননাঙ্গ বেরিয়ে আসে। মৃত্যুর হার ৫-১০০% পর্যনত্ম হতে পারে।

রোগ নির্ণয়: রোগের ইতিহাস, উলে−খযোগ্য উপসর্গসমূহ এবং প্যাথলজিক্যাল পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করে প্রাথমিকভাবে এ রোগ সন্দেহ করা যায়। প্রাণিরোগ অনুসন্ধান ল্যাবরেটরিতে মৃত হাঁসের ময়নাতদন্ত ও ভাইরাস সতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে এ রোগ সনাক্ত করা যায়।

পোস্টর্মটেমে প্রাপ্ত তথ্যাদি: হৃদপিন্ডের পেরিকার্ডিয়ামের উপর প্রচুর বিন্দু বিন্দু ও ইকাইমোটিক প্রকৃতির রত্তপাত দেখা যায়। করোনারী গ্রভে এ ধরনের রত্তপাত এমনভাবে ঘটে যে সেখানে ব্রাশে রত্ত মাখিয়ে ছাপ লাগানো হয়েছে। এ প্রকারের রত্তপাত বয়স্ক হাঁসে অধিক হয়। পৌষ্টিকতন্ত্রের খাদ্যনালী (Esophagus), সিকাম, মলাশয় (rectum) এবং অবসারণীতে নির্দিষ্ট প্রকৃতির পরির্বতন ঘটে। এ সমসত্ম জায়গার মিউকোসার উপরে ১ মিলিমিটার হতে ১ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের ম্যাকুল বা লাল বর্ণের বহু দাগ স্থানে স্থানে পাওয়া যায়। প্রথমে এ লাল ম্যাকুল গুলোর উপর হলুদ বর্ণের চটা (scab) পড়ে এগুলো সবুজ বর্ণ ধারণ করে এবং এদের base আর লাল থাকে না। প্রোভেন্ট্রিকুলাস এবং গির্জাড এর সংযোগস্থলে সংকোচনী পেশী (sphincter muscle) দ্বারা সৃষ্ট ব্যান্ড রত্ত সঞ্চয়নের জন্য লালবর্ণ ধারণ করে এবং দেখতে একটা লালবর্নের অঙ্গুরী মনে হয়।

প্রভেদমূলক পার্থক্য :এ রোগকে কখনও কখনও ডাক হেপাটাইটিস বলে সন্দেহ হতে পারে তবে এখানে লক্ষণীয় যে ডাক পে−গ রোগে সব বয়সী হাঁস আক্রানত্ম হতে পারে কিন্তু ডাক হেপাটাইটিস রোগে কেবলমাত্র বাচ্চা হাঁস (৩ সপ্তাহের কম বয়সী) আক্রান্ত হয়। ময়না তদন্ত ও হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল পরিবর্তন দেখে এ দুইটি রোগ পৃথক করা যায়।

রোগ প্রতিরোধ : ¯^v¯’¨m¤§Z বিধিব্যবস্থা পালন করতে হবে। আক্রান্ত হাঁসকে অতি দ্রুত হাঁসের ঝাঁক থেকে সরিয়ে নিয়ে পৃথক স্থানে রাখতে হবে। খামার রোগমুক্ত রাখার জন্য আক্রানত্ম স্থানসহ খামারের সর্বত্র প্রতিদিন জীবাণুনাশক (যেমন Glutex GQ1, Virkon S, TH4+ BZ¨vw`) দ্বারা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। খামারে ব্যবহার্য সকল সরঞ্জামাদি প্রতিদিন পরিষ্কার করে জীবাণুনাশক প্রয়োগ করতে হবে। খামারের জীবনিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে।

ভ্যাকসিনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ : ডাক পেস্নগ ভ্যাকসিন দেশে পাওয়া যায়। ডাক পে−গ রোগ প্রতিরোধকল্পে সুস্থ এবং রোগাক্রান্ত হাঁসের ঝাঁকে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা যায়। ডাইলুয়েন্ট সহযোগে ভ্যাকসিন প্রস্তুত করার পরই প্রতিটি হাঁসকে চামড়ার নীচে অথবা মাংসপেশীর মধ্যে ০.৫ মিলি করে ভ্যাকসিন দিতে হবে।
প্রাথমিক ভ্যাকসিন প্রদান ঃ রোগমুক্ত এলাকায় ৭-১১ সপ্তাহ বয়সের ভবিষ্যতের ব্রিডারদের জন্য ৪ সপ্তাহের ব্যবধানে ২টি ইনজেকশন। রোগাক্রানত্ম এলাকায় ঃ ঝাঁকে প্রথম রোগ দেখা দেবার পরই সর্ব প্রথম ১০ দিন বয়সের হাঁসের বাচ্চাকে এক মাত্রা (০.৫ মিলি) করে ভ্যাকসিন দিতে হবে।
বুস্টার ঃ প্রতিবার ডিম পাড়ার মৌসুম শুরুর পূর্বে এক মাত্রা ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হবে।
এই ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি আমদানিকৃত নির্দিষ্ট ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কর্মসূচি মোতাবেক যথারীতি ভ্যাকসিন প্রদান করা হলে খামারে ডাক পে−গ রোগের মড়ক নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। দেশে প্রস্তুত ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে এই কর্মসূচিতে পার্থক্য হয়। ঢাকার মহাখালীতে এল আর আই কর্তৃক দেশীয় (local) স্ট্রেইন ব্যবহারেও ভাল ফল পাওয়া যায়। এ ভ্যাকসিনে ১০০ মাএা টিকা থাকে। ভায়ালে পরিস্রুত পানি মিশিয়ে মিশ্রিত টিকা হাঁসের বুকের মাংসে ১ মিলি করে ইনজেকশন হিসাবে দিতে হয়। ৩ সপ্তাহ বয়সের হাঁসের বাচ্চাকে ১ম টিকা দিতে হয়। ৬ মাস পর্যনত্ম এ টিকার রোগ প্রতিরোধ ক্ষ্মমতা বজায় থাকে। তাই ৬ মাস পর পর এই টিকা দিতে হয়। খামারে রোগ দেখা দিলে সুস্থ হাঁসগুলিকে আলাদা করে এ টিকা দিতে হয়।

ডাক ভাইরাস হেপাটাইটিজ: এটা ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হাসেঁর বাচ্চার অত্যনত্ম ক্ষ্মতিকর সংক্রামক রোগ। এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ে অনেক হাসেঁর মৃত্যু ঘটাতে পারে। রোগাক্রানত্ম হাঁসের যকৃতে প্রদাহ হয় বলে এ রোগকে হেপাটাইটিস ও বলা হয়। ১৯৪৫ সালে যুত্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম এ রোগ ধরা পড়ে। এরপর কানাডা,ইংল্যান্ড, জার্মানী , নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম, ইতালী, রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রাজিল,জাপান, ইসরাইল, থাইল্যান্ড এবং ভারতবর্ষে এটা পাওয়া গেছে।
রোগের কারণ: পিকোরনা ভাইরাস নামক একপ্রকার ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্ট হয়।
এপিডিমিওলজি: প্রাকৃতিক নিয়মে ১-২ সপ্তাহের বয়সের হাঁস অত্যনত্ম সংবেদনশীল। বয়স্ক হাঁসে এ রোগ হয় না। প্রাকৃতিক নিয়মে মুরগি ও টারকিতে এ রোগ হয় না। এটা অত্যনত্ম ছোঁয়াচে প্রকৃতির রোগ এবং প্রকৃতিতে সহঅবস্থান হাঁসের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ডিমের মধ্যে বা কীটপতঙ্গ দ্বারা সংক্রমিত হবার প্রমাণ পাওয়া যায় নি। রোগ থেকে সেরে উঠা হাঁসের পায়খানার সাথে প্রায় ৮ সপ্তাহ যাবৎ এ ভাইরাস দেহ হতে বেরিয়ে আসে। আক্রানেত্মর হার প্রায় ১০০%। মৃত্যু হার ১ সপ্তাহের কম বয়সের বাচ্চাতে প্রায় ৯৫%, ১-৩ সপ্তাহের বাচ্চাতে প্রায় ৫০% এবং ৪-৫ সপ্তাহের বাচ্চাতে অতি অল্প।
রোগের লক্ষ্মণ: এ রোগ অতি দ্রুত অল্পবয়স্ক হাঁসের বাচ্চার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক বাচ্চা হঠাৎ পড়ে গিয়ে মারা যায়। কিছু বাচ্চা শুয়ে থেকে ঘাড় পিছনের দিকে বাঁকা করে, চোখ বুজেঁ পেট ব্যাথার জন্য চিৎকার কেও এবং পা ঝাপটায়। এভাবে কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘন্টার মধ্যে মারা গিয়ে থাকে। কিছু কিছু বাচ্চা ঈষৎ সবুজ বর্নের পাতলা পায়খানা করে।

পোস্টমর্টেমে প্রাপ্ত তথ্যাদি: যকৃত অত্যনত্ম স্ফীত (Hypertrophy), হলুদ বা লালচে হয়। এর উপর বিন্দু বিন্দু (Pinpoint) রত্তপাত ঘটতে দেখা যায়। এছাড়া হাঁসের বৃক্ক (Kidney) ও স্ফীত হয়।

চিএ: যকৃতে হলুদ বর্ণের ফ্যাটি ডিজেনারেশন হয় এবং ছোট ও বড় আকারের রত্তপাত (Haemorrhage) পরিলক্ষ্মিত হয়।
চিএ: যকৃতে হলুদ বর্ণের ফ্যাটি ডিজেনারেশন হয় এবং ছোট ও বড় আকারের রত্তপাত (Haemorrhage) পরিলক্ষ্মিত হয়।

রোগ নির্ণয়: এপিডিমিওলজি, রোগ লক্ষ্মণ এবং পোস্টমর্টেম পরির্বতন এ রোগের ক্ষ্মেেএ নির্দিষ্ট। তাই এগুলেঅ দেখে এ রোগ সহজে নিরুপন করা যায়। এছাড়া পরীক্ষ্মাগারে নিউট্রালাইজেশন এবং আগার জেল ডিফিউশন টেস্ট দ্বারা ভাইরাসের পরিচিতি জানা যায়।

তুলনীয় রোগ: হাসেঁর এ রোগ ডাক পে−গ রোগের সাথে ভুল হতে পারে। তবে এ রোগ একটি নির্দিষ্ট বয়সের হাঁসের মধ্যে সীমাবদ্ব (জন্মের পর হতে ৩-৪ সপ্তাহ) এবং ডাক পে−গ সব বয়সের হাঁসেই হয়। এছাড়া ডাক পে−গ রোগ প্রধানত: বয়স্ক হাঁসেই অধিক হয়। সুতরাং কোন খামারে যদি ডাক পে−গ হয় তাহলে সেখানকার ছোট এবং বড় সব বয়সের হাঁসই আক্রানত্ম হবে। তাছাড়া ডাক পে−গ রোগে শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অংশে প্রচুর রত্তপাত ঘটে যা এ রোগে হতে দেখা যায় না।

চিকিৎসা: এন্টিসিরাম থেরাপি এ রোগে যথেস্ট কার্যকরী। এক্ষ্মেেএ এন্টিসিরাম বা হাইপার ইমিউনাইজড (Hyperimmunized) হাঁস হতে রত্ত নিয়ে আক্রানত্ম প্রতিটি হাঁসে ০.৫ মিলি করে ইনজেকশন করলে যথেষ্ট সুফল পাওয়া যায়।

রোগ প্রতিরোধ : রোগ প্রতিরোধের জন্য জন্মের পর ৪-৫ সপ্তাহ পর্যনত্ম হাসেঁর বাচ্চা গুলোকে পৃথকভাবে ¯^v¯’¨m¤§Z উপায়ে রাখলে রোগের আক্রমণ হতে রক্ষ্মা করা যেতে পারে। এছাড়া অনাক্রম্যতা (Immunity) সৃষ্টির মাধ্যমে ও রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ অনাক্রম্যতা তিন প্রকারে সৃষ্টি করা যায় যেমন
১) জন্মের ১ দিনের দিন হতে এন্টিসিরাম বা হাইপার ইমিউন (Hyper-immune) রত্ত হাঁসের বাচ্চাদের ইনজেকশন করা যায়। এতে অপ্রতিরোধী ইমিউনিটি (Passive immunity) দ্বারা হাঁসের বাচ্চার রোগ প্রতিহত করতে সক্ষ্মম হবে।
২) ডিমপাড়া হাঁসকে টিকা প্রদান করে তার দেহে ইমিইনিটি সৃষ্টি করা। এত মাতৃদেহ হতে এন্টিবডি ডিমের কুসুমের মধ্য দিয়ে বাচ্চার দেহে প্রবেশ করে তাকে রক্ষ্মা করে।
৩) জন্মের পরই হাঁসের বাচ্চাকে টিকা প্রদান করা।

সূএ: ১) Important poultry disease by MSD- Shering plough. ২) মুরগি ও অন্যান্য পাখির রোগতত্ত্ব বাই প্রফেসর আবদুর রহমান। 3) Poultry science and medicine by Professor Dr M A Samad

লেখকঃ ডা: আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সাইদুল হক

আবুল হাসনাত মোঃ সাইদুল হক, ডিভিএম।

এটাও দেখতে পারেন

The control of coccidiosis in poultry

Coccidiosis is still considered one of the main diseases affecting the performance of poultry reared …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *